তালা ( সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালায় মাদক, অনলাইন জুয়া ও দেহ ব্যবসার অভিযোগে অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী মোড়ল ও তার স্ত্রী আয়েশা বেগমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের তৎপরতা শুরু হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলেও এখনো তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী মোড়ল মহান্দী পূর্বপাড়া এলাকার মৃত সাকা মোড়লের ছেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার স্ত্রী প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মহান্দী এলাকায় অবৈধ মাদক, অনলাইন জুয়া ও দেহ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। নির্জন বাড়িতে এসব কর্মকাণ্ড চলায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এই দম্পতির কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার যুব সমাজ বিপথগামী হচ্ছে এবং বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দ্রুত এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলামের নির্দেশে শুক্রবার সকাল ও সন্ধ্যায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মোহাম্মদ মোড়ল পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।
এদিকে, পুলিশের অভিযান শেষে সন্ধ্যায় মহান্দী ঘাটকান্দার মোড়ে একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ মোড়ল সাংবাদিক ও পুলিশকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম নয়নকে প্রাণনাশসহ বিভিন্নভাবে হয়রানির হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
দোকানদার আকছেদ আলী বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “মোহাম্মদের কারণে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে।”
ভুক্তভোগী খায়রুল মোড়ল জানান, নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাকে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। পরে টাকা ফেরত চাইলে গত ৫ জুন রাতে বাজার থেকে ডেকে নিয়ে তাকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয়। জীবন বাঁচাতে টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে সেটির ভিডিও ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সরেজমিনে স্থানীয় কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাইরে থেকে নারী এনে দেহ ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রির অভিযোগও রয়েছে এই দম্পতির বিরুদ্ধে। এছাড়া চাঁদাবাজি, গরু ধরে নিয়ে যাওয়া এবং স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেন স্থানীয়রা। এসব ঘটনায় একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি তাদের।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারের মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিকে উপেক্ষা করে প্রকাশ্যে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ ঘটনায় তালা প্রেসক্লাবের সদস্য রফিকুল ইসলাম নয়নকে প্রাণনাশসহ বিভিন্নভাবে হয়রানির হুমকির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তালা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ।
নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী জাহিদুর রহমান, কাজী আরিফুল হক ভুলু, আছাদুজ্জামান রাজু, খলিলুর রহমান লিথু, সাধারণ সম্পাদক জোয়ার্দ্দার ফারুক, যুগ্ম সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন ও মো. খলিলুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মো. মুতাহিরুল হক শাহিন, দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফি, প্রচার সম্পাদক সেকেন্দার আবু জাফর বাবলু, উপ-প্রচার সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ, সাহিত্য সম্পাদক অর্জুন বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আজমল হোসেন জুয়েল, ক্রীড়া সম্পাদক কাজী লিয়াকত হোসেন, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক রিয়াদ হোসেন, প্রণব ঘোষ বাবলু, রোকনুজ্জামান টিপু, কে এম শাহিনুর রহমান, এস এম নাহিদ হাছান, শিরিনা সুলতানা, জয়দেব চক্রবর্তী, আজিজুর রহমান ও মো. ইমরান হোসেন।
এ বিষয়ে তালা থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পরপরই অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। খুব দ্রুত তাদের গ্রেফতার করা হবে।”







