তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ৫ নম্বর তেঁতুলিয়া ইউনিয়নে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সার ডিলার নিয়োগে চরম বঞ্চনার শিকার হয়েছেন তালা থানা ছাত্রদলের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক আজমল হোসেন জুয়েল।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ডিলার নিয়োগের সকল আইনি ও প্রশাসনিক শর্ত পূরণ করার পরও রাজপথের ত্যাগী এই ছাত্রনেতাকে বাদ দিয়ে এমন একজনকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে বিএনপি বা এর কোনো অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের দূরতম সম্পর্কের প্রমাণ মেলেনি। এর নেপথ্যে কাজ করেছেন উপজেলা বিএনপির শীর্ষ এক নেতা। যিনি বার বার জুয়েলকে অবমূল্যায়নে পেছন থেকে মূখ্য ভূমিকা রেখেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক স্থানীয় দৈনিক ‘যুগের বার্তা’ পত্রিকায় সার ডিলার নিয়োগের একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী নির্ধারিত ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্বচ্ছতার সঙ্গে আবেদন জমা দেন আজমল হোসেন জুয়েল।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ১ জন ডিলার পদে জুয়েলসহ মোট ১১ জন আবেদন করেন। প্রাথমিক কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও নিয়মমাফিকের প্রক্রিয়া শেষে জেলা কমিটির তৈরি করা শীর্ষ ৩ প্রার্থীর সংক্ষিপ্ত তালিকায় জুয়েলের নাম চূড়ান্তভাবে স্থান পায়।
তবে রহস্যজনকভাবে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় নাম উঠে আসে রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির নাম, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কোনো রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেই যুক্ত নন। উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন ই মূলত রবিউল ইসলাম নামের ওই ব্যাক্তিকে ডিলারশীপ পাইয়ে দিতে মূখ্য ভূমিকা রেখেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
রাজনৈতিক জীবন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—জুয়েলের ক্ষেত্রে সার ডিলার নিয়োগে এই বঞ্চনার ঘটনা প্রথম নয়; বরং এটি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ অবমূল্যায়নের ধারারই এক নতুন অধ্যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রদলের রাজপথের আন্দোলনের শুরু থেকেই জুয়েল সক্রিয়। ২০১১ সালে ৫ নম্বর তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও তিনি পদ পাননি। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে তাঁর শক্তিশালী অবস্থান থাকলেও, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনা সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের আশ্বাসে জুয়েল দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। তাঁকে ভবিষ্যতে বড় দায়িত্বে মূল্যায়নের কথা থাকলেও সেই আশ্বাস বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি ২০২০ সালে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ কমিটি গঠনের লক্ষে যে মতবিনিময় সভা করেছিল সেখানে জুয়েল উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থীতার ঘোষণা দেন। সাধারণ সম্পাদক পদে তাঁর জোরালো দাবি থাকা সত্ত্বেও তালা উপজেলাকে ভেঙে দুটি থানা কমিটিতে ভাগ করা হলে তাঁকে কেবল থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান জুয়েল পারিবারিক প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে তৃণমূল থেকেই জিয়াউর রহমানের আদর্শে রাজনীতিতে যুক্ত হন। রাজপথের চরম দুঃসময়ে, বিশেষ করে যখন শীর্ষ নেতাদের আদালতের হাজিরা বা মামলা-হামলায় হাতে গোনা ১০-১৫ জন কর্মী পাশে থাকতেন, তখনও জুয়েল প্রশাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত থাকার সুবাদে দলীয় সহযোদ্ধাদের গ্রেপ্তার ও পুলিশের ধাওয়া থেকে রক্ষায় আগাম তথ্য সরবরাহ করে কর্মীদের নিরাপদ রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে আজমল হোসেন জুয়েল গণমাধ্যমকে জানান, “দল বা রাষ্ট্র আমাকে কী দিল না দিল—সেই হিসেব আমি করি না। আমি রাজপথে কতটা দিতে পেরেছি সেটাই আমার কাছে মুখ্য। রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে বঞ্চিত করা হলেও আমি আমৃত্যু জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতিতেই অবিচল থাকব এবং যেকোনো সংকটে সামনে থেকেই ভূমিকা রেখে যাব।”







