মেহেদী হাসান শিমুল : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী জাহানাবাজ আধার মানিক বিলে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং গ্রামীণ জনগণের জন্য নির্মল বিনোদনের ব্যবস্থা করতেই এ আয়োজন করা হয়।
রবিবার (৭ জুন) বিকেলে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ আব্দুর রউফ।
ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী যুবদল নেতা ও সাতক্ষীরার সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম নান্টা, ধুলিহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তাকদীর আহসান রুবেল, ধুলিহর জাহানাবাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আছাদুল ইসলাম, ৭নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন (মন্টু), সাবেক ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম, ছাত্রদল নেতা রিপন হোসেন, স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন বাবু, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সরদারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আকর্ষণীয় এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন জেলা থেকে অংশগ্রহণকারী ঘোড়াগুলোর মধ্যে যশোরের বাগারপাড়ার রাইসান ২০ পয়েন্ট অর্জন করে প্রথম স্থান লাভ করে। ঘোড়াটির সওয়ারির নাম ছিল যুবরাজ। ১৬ পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে খুলনার পাখি, ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করে কুশখালীর রানী। এছাড়া গোপালগঞ্জের মাহির রাজ, চতুর্থ এবং নড়াইলের আলামিনের ঘোড়া পঞ্চম স্থান অর্জন করে।
প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, ঘোড়দৌড় আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমান সময়ে অপসংস্কৃতির ভিড়ে এমন আয়োজন যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে এবং সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
পরে অতিথিবৃন্দ বিজয়ী সওয়ারিদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় স্থানীয়রা গ্রাম বাংলার এই প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রতি বছর এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
সমগ্র প্রতিযোগিতা সফলভাবে পরিচালনা করেন জেলার স্বনামধন্য সংগঠক মো. আব্দুল্লাহ সানা। অনুষ্ঠানটি সফল করতে আয়োজক কমিটির সদস্য মো. দিদারুল ইসলাম খোকা, মো. সাইফুল্লাহ ও মো. শহিদুল ইসলামসহ এলাকার যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
হাজারো দর্শকের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ আয়োজন গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।







