নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে দেওয়ানিয়া ১৩১/২৪ নং মামলা চলমান আছে। বিজ্ঞ আদালত উক্ত জমিতে স্থিতিবস্থা বজায় রাখার আদেশ প্রদান করেছে। আদালতের রায় কে উপেক্ষা করে প্রাণসায়রের খালের ধারে পৌরসভার কসাইখানা নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

আবারও খালটি ভাগাড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রকৌশলী বিভাগের কসাইখানার টেন্ডার সংক্রান্ত বিষয়ে সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড় বাজারে সচেতন মহল ও ব্যবসায়ীরা এ ব্যাপারে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।”

সোমবার (৩ আগস্ট) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় খালের পাড়ে কসাইখানার বর্জ্য ময়লার স্তুপ জমে আছে। শহরের বুক চিরে প্রবাহিত এই খালটি সাতক্ষীরার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০০০ সালের ভয়াবহ বন্যায় এ খালটি শহরবাসীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দীর্ঘদিন দূষণ ও দখলের কারণে খালটি মরে গেলেও জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদের প্রচেষ্টায় খালটি আবারও প্রবাহমান হয়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৮৪০ সালে প্রাণনাথ রায় চৌধুরী কলকাতার সঙ্গে নৌপথে যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের উদ্দেশ্যে এই খাল খনন করেছিলেন। শহরের বুক চিরে প্রবাহিত এ খাল শুধু জলধারাই নয়, শহরের সৌন্দর্য ও ভারসাম্যের অন্যতম প্রতীক। শহরবাসীর দাবি-এই খালকে আবারও দূষণের মুখে ঠেলে দেওয়া যাবে না।

এ বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক সমাজও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, খালের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় শহরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। সাতক্ষীরাবাসীর প্রত্যাশা-প্রাণসায়রের খাল যেন আবারও ভাগাড়ে পরিণত না হয় এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের জন্য এটি সংরক্ষিত থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *