শাহ জাহান আলী মিটন: সাতক্ষীরা সদরে যুব-নেতৃত্বে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি ও দ্বন্দ্ব নিরসনে
ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সাথে অধিপরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল-২৬) সকাল ১০ টায় সাতক্ষীরা সদরের উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সিডো বাস্তবায়নে এবং একশনএইড বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় এরফরটি প্রকল্পের আওতায় এ অধিপরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সিডো সংস্থার প্রধান নির্বাহী শ্যামল কুমার বিশ্বাস এর সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশনেন সাতক্ষীরা আলিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মুফতি আখতারুজ্জামান, গাভা আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ শিবপদ গাইন,উপজেলা ঈমাম সমিতির সভাপতি শেখ মাহববুর রহমান, সাতক্ষীরা সদর সার্বজনীন পূজা মন্দির কমিটির সভাপতি গৌর দত্ত, জেলা কেন্দ্রিয় মন্দিরের পুরোহিত শ্যামল ব্যানার্জী, ক্যাটেখিস্ট চালতেতলা মিশনের ডমেনিক মন্ডল, ব্রক্ষরাজপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল হুদা, জেডিএফ সভানেত্রেী ফরিদা আক্তার বিউটি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ঈমাম সমিতির সভাপতি সেক্রেটারী হাফেজ মাওলানা আব্দুল হাকিম, বিশিষ্ট সমাজসেবক হেনরি সরদার, ক্রিসেন্ট পরিচালক আবু জাফর সিদ্দিকী, ফিংড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আবু ছালেক, বাংলাভিশন টিভির জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান, উন্নয়ন কর্মি মৃনাল কুমার সরকার, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স সহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডারবৃন্দ ও যুব সদস্যবৃন্দ।
সকল ধর্মীয় নেতা, ডিএমসি এবং অন্যান্য অংশীজনদের উপস্থিতিতে দ্বন্দ্ব নিরসনের উদ্দেশ্যে কর্ম-পরিকল্পনা প্রস্তুত করা এবং চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য উদ্যোগ গ্রহন করা। দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য ডিএমসি এবং কমিউনিটির সাথে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহনের সুযোগ তৈরী করা, অনলাইনে দ্বন্দ্ব নিরসনে উৎসাহিত করা এবং শান্তি সম্প্রীতি কমিটিতে যুবদের সম্পৃক্ত করা।
আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধরনের আঞ্চলিক দ্বন্দের আশঙ্কা রয়েছে, যেমন বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অতি উৎসাহিত মনোভাবের কারনে সংঘাত, ধনী-দরিদ্রের মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ, ত্বকের রঙ নিয়ে দ্বন্দ, রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে দ্বন্দ, জমি নিয়ে দ্বন্দ ইত্যাদী উল্লেখযোগ্য। ধমীয় নেতারা ও তরূনরা স্থানীয় এলাকার সামাজিক সম্প্রীতি নষ্টকারী সূচকগুলো চিহ্নিত করে একটি কর্ম-পরিকল্পনার মাধ্যমে সেগুলো সমাধানের উপায় খুজে বের করায় এই সংলাপের একমাত্র লক্ষ্য।
প্রত্যাশা ও প্রস্তাবনা ছিল সম্প্রদায়ের মধ্যে সামাজিক শান্তি-সম্প্রীতি বৃদ্ধির জন্য ধর্মীয় নেতা এবং অন্যান্য সমমনা অংশীদারদের অংশগ্রহনে কর্ম-পরিকল্পনা তৈরী ও বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহন করা হবে। স্থানীয় শান্তি-সম্প্রীতি কমিটিতে যুবদের অর্ন্তভুক্ত করা ও দ্বন্দ নিরসনে অবদান রাখার জন্য উৎসাহিত করা হবে। বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে ধর্মীয় নেতা ও তরূনদের অংশগ্রহনের মাধ্যমে যুব এবং ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে একটি ভাল সংযোগ তৈরী করা হবে। আন্ত:প্রজন্ম সংহতি প্রচারণা আন্ত:সম্প্রদায়ের মাধ্যমে পারস্পারিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করা।
আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ধর্মীয় নেতারা সামাজিক সংহতি ও দ্বন্দ নিরসন বিষয়ে কিভাবে ভুমিকা রাখতে পারবে? সমাজে শান্তি-সম্প্রীতি রক্ষায় ও দ্বন্দ নিরসনে যুবদের কি ভুমিকা থাকা দরকার? সকল ধর্মের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে কিভাবে এক প্লাটফর্ম তৈরী করা যেতে পারে? শান্তির বার্তা প্রচারের জন্য ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে কোন মাধ্যম ব্যবহার করতে পারি?
সামাজিক শান্তি সম্প্রীতি ও দ্বন্দ নিরসন বিষয়ে যুবদের কিভাবে কাজে লাগানো যায়? উপরোক্ত বিষয়াবলির উপর ধর্মীয় নেতারা সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি ও দ্বন্দ নিরসনের জন্য পরামর্শ প্রদান করেন এবং যুবদের নিয়ে একসাথে কাজ করার প্রত্যায় ব্যক্ত করেন।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প সমন্বয়কারী, মো: তহিদুজ্জামান, তহিদ, প্রোগ্রাম অফিসার, চন্দ্রশেখর হালদার, ফাইন্যান্স অফিসার চন্দন কুমার বৈদ্য।








