আব্দুর রহমান : শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধ এবং নিয়মিত উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে সাতক্ষীরা শহরের দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পারিবারিক অর্থায়নে মিড ডে মিল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে চলমান এ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন দিন ভিন্ন ভিন্ন পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য মিড ডে মিলের আয়োজন করা হয়।

এদিন শিক্ষার্থীদের খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি তাদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসতে উৎসাহিত করা হয়। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মিড ডে মিল চালুর আগে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের গড় উপস্থিতি ছিল প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ। বর্তমানে তা বেড়ে ৯০ শতাংশেরও বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হারও কমেছে।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৬০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের মধ্যে অনেকেই আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সন্তান। মিড ডে মিলের মেনুতে বিভিন্ন সময়ে সবজি খিচুড়ি, সিদ্ধ ডিম, মাংস, কলা, পাউরুটি ও বনরুটিসহ বিভিন্ন খাবার রাখা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহও বাড়ছে বলে জানান শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।

বিদ্যালয়ের মিড ডে মিল কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেন প্রধান শিক্ষক সানজিনা শাহনাজের বড় ভাই ডা. মেহেদী নেওয়াজ। তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক উপাধ্যক্ষ ও অর্থোপেডিক সার্জন এবং বর্তমানে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত।

একজন অভিভাবক বলেন, আগে অনেক শিশু নিয়মিত স্কুলে যেতে চাইত না। এখন তারা আগ্রহ নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। খাবারের পাশাপাশি শিক্ষকদের আন্তরিক আচরণও শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে ভূমিকা রাখছে। সহকারী শিক্ষকেরা জানান, মিড ডে মিল শুধু শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করছে না; এর ফলে শ্রেণিকক্ষে তাদের মনোযোগ ও অংশগ্রহণও বেড়েছে। বিদ্যালয়ের পরিবেশও হয়েছে আরও প্রাণবন্ত।

প্রধান শিক্ষক সানজিনা শাহনাজ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু শিক্ষার্থীদের খাবার দেওয়া নয়। আমরা চাই তারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসুক, পড়াশোনায় আগ্রহী হোক এবং সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠুক। এই উদ্যোগ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করছে। ভবিষ্যতে আরও পুষ্টিকর ও বৈচিত্র্যময় খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।’ বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা প্রধান শিক্ষকের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *