Oplus_131072

নিজস্ব প্রতিনিধি : চিকিৎসা পেশাকে বলা হয় সেবার ধর্ম। কিন্তু বর্তমান ব্যস্ত ও বাণিজ্যিক সময়ে একজন চিকিৎসকের দায়িত্ববোধ এবং আন্তরিকতার উদাহরণ যখন মানুষের মুখে মুখে ফেরে, তখন তা সমাজের জন্য আশার আলো তৈরি করে। সাতক্ষীরা জেলার শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় তেমনি এক আস্থার নাম ডাঃ মো. রিয়াদ হাসান। তিনি শুধু একজন চিকিৎসক নন, বরং অনেক শিশু ও অভিভাবকের কাছে এক পরম মানবিকতার প্রতীক।

ডা. মো. রিয়াদ হাসান একজন সুপরিচিত শিশু বিশেষজ্ঞ। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা তাকে এই ক্ষেত্রে বেশ দক্ষ করে তুলেছে। তাঁর ডিগ্রিগুলো হচ্ছে—এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমডি (শিশু) (বিএসএমএমইউ)। তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের একজন কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন।

ডা. মো. রিয়াদ হাসানের ভাষ্যমতে, তিনি সরকারি পদে কর্মরত থাকার পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষের দোড়গোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে প্রতিদিন শত শত শিশু রোগী আসে। সেখানে তিনি নির্দিষ্ট সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত হন এবং অত্যন্ত ধৈর্য ও নিষ্ঠার সাথে সেবা দেন। তার কর্মপদ্ধতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো রোগীর প্রতি আন্তরিকতা।

শিশু রোগীর স্বজনরা জানান, হাসপাতালের নির্ধারিত সময়ের পরও যদি কোনো রোগী বাকি থাকে, তবে একজন শেষ রোগী পর্যন্ত না দেখে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন না। শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিটি শিশুর শারীরিক সমস্যা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

সাতক্ষীরা রং-তুলি আর্টের সত্ত্বাধিকারী ও ব্লাড ডোনার এডমিন মোহেব উল্যাহ বলেন, শিশুরা স্বভাবতই কিছুটা ভীতু প্রকৃতির হয়ে থাকে, বিশেষ করে ডাক্তারের মুখোমুখি হলে তারা কান্না বা ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু ডা. রিয়াদ হাসানের হাসিমুখ ও আন্তরিক কথোপকথন শিশুদের ভীতি দূর করে দেয়। শুধু রোগীই নয়, রোগীর সাথে আসা স্বজনদের সাথেও তিনি অত্যন্ত নম্র ও ধৈর্যশীল আচরণের পরিচয় দেন। অসুখের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা, কীভাবে যত্ন নিতে হবে সে বিষয়ে বুঝিয়ে বলা এবং অভিভাবকদের আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে তার এই অমায়িক দৃষ্টিভঙ্গি রোগীদের মানসিকভাবে অর্ধেক সুস্থ করে তোলে। হাসপাতাল ছাড়াও তিনি বেসরকারিভাবে রোগী দেখেন।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বলেন, একটি সুস্থ সমাজ গঠনে প্রয়োজন ডা. রিয়াদ হাসানের মতো মানবিক ও দায়বদ্ধ চিকিৎসক।
সরকারি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনে ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করা সহজ কথা নয়। তার এই মানবিক সেবা এবং সততা সাতক্ষীরার স্বাস্থ্যসেবায় এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। দেশের প্রতিটি চিকিৎসকের মধ্যে এই আন্তরিকতা ছড়িয়ে পড়লে স্বাস্থ্য খাত সাধারণ মানুষের প্রকৃত আশার স্থল হয়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *