মোঃ মোকাররাম বিল্লাহ ইমন : রোগাক্রান্ত ও পোকাধরা গরু গোপনে জবাই করে সাধারণ মানুষের কাছে মাংস বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করেছে সাতক্ষীরা থানা পুলিশ। এ সময় আসামীদের ব্যবহৃত ১টি পিকআপ ভ্যান, ১টি মোটরসাইকেল এবং ১টি অসুস্থ গরু উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে সাতক্ষীরা ১৩নং লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা বৌবাজার এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক ৪:০০ সময় একটি লাল-কালো রঙের বোলেরো চার চাকার পিকআপ গাড়িতে (রেজিঃ নং- খুলনা-ন-১১-১৭৪১) করে একটি অত্যন্ত রোগাগ্রস্ত ফ্রিজিয়ান গরু নিয়ে আসে প্রতারক চক্রটি। মাগুরা বৌবাজারের রাস্তার ধারে গরুটি নামানোর সময় স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হয়। গরুটির মুখ দিয়ে ক্রমাগত ফেনা ও লালা ঝরছিল এবং এটি নড়াচড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্জ এম সোহেল আহমেদ মানিকসহ স্থানীয়দের খবর দেন।
খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে গরুটির আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখতে পান এবং তৎক্ষণাৎ সাতক্ষীরা থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চক্রের সাথে জড়িত আসামীদের আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি বোলেরো পিকআপ এবং ১টি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল (রেজিঃ নং- সাতক্ষীরা-ল-১১-৭৯৪০) জব্দ করা হয়।
দুপুর ১২:৪০ মিনিটের সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর, সাতক্ষীরা সদরের উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ অফিসার শেখ সালাহউদ্দীন সাতক্ষীরা থানায় উপস্থিত হয়ে গরুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং গরুটি মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা স্বীকার করেছে যে, তারা পরস্পর যোগসাজশে বিভিন্ন এলাকা থেকে কম দামে মারাত্মক অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত গরু সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে এসব গরু গোপনে জবাই করে সুস্থ গরুর মাংস হিসেবে বাজারে বিক্রি করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল।
আটককৃত আসামীরা হলেন আবুল বাশার কারিগর (৩০) পিতা- আনছার আলী কারিগর, গ্রাম শিবতলা মাছখোলা সাতক্ষীরা, তৈয়েবুর রহমান (১৯) পিতা- জিয়ারুল ইসলাম গ্রাম শিবতলা মাছখোলা সাতক্ষীরা, মোঃ শাহিন ইসলাম (২০) পিতা- মৃত আরশাদ আলী গ্রাম শিবতলা মাছখোলা সাতক্ষীরা, মোঃ ইব্রাহীম শেখ (২৫) পিতা- হাফিজুর শেখ গ্রাম সাহাপুর ডুমুরিয়া খুলনা, রাব্বি হোসেন আকাশ (২৫) পিতা- হাবিবুর রহমান গাজী গ্রাম চুকনগর ডুমুরিয়া খুলনা, ঘটনায় জড়িত অপর আসামী মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৫) পিতা- মতলেব মোড়ল গ্রাম মঙ্গলকোট কেশবপুর যশোর এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে আলহাজ্জ এম সোহেল আহমেদ মানিক বাদী হয়ে সাতক্ষীরা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। সাতক্ষীরা থানা পুলিশ জানায়, উক্ত সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।







