শাহ জাহান আলী মিটন : জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত সমাধানের পথ খুঁজে বের করার লক্ষ্যে, আগামী ২৭ ও ২৮ আগস্ট, ২০২৫-একশনএইড বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে সাতক্ষীরা প্রথমবারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে ‘নেক্সাস ফেস্ট ২০২৫’।

শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে স্থানীয় জনগোষ্ঠী, তরুণ সমাজ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সরকারি অংশীদাররা একত্রিত হয়ে একটি ন্যায্য ও স্থিতিশীল সমাজ গঠনের আহ্বান জানাবেন।

উৎসবটি ২৭ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, সাতক্ষীরা-তে শুরু হবে এবং ২৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এতে ২৭ আগস্ট ২০২৫ বুধবার সকাল সাড়ে ৯ টায় র‌্যালী ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার, সাতক্ষীরা ও সম্মানিত অতিথি প্রফেসার বাসুদেব বসু, অধ্যক্ষ, সাতক্ষীরা সরকারী মহিলা কলেজ, বিশেষ অতিথি শোয়াইব আহমাদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সাতক্ষীরা সদর বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

দুইদিন ব্যাপী উৎসবে থাকবে ইন্টারএকটিভ প্রদশনী, তরূণদের প্রমানভিত্তিক র‌্যালী, গবেষণা ও নীতি , সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, থিয়েটার, পটগান, বিতক, বাবা মেয়ের খেলাধূলা, সাইকেল রেস, ফুটবল রেস, জারীগান ও যুব সদস্যদের নাটক।

আয়োজকরা আশা করছেন এ উৎসবের মাধ্যমে জলবায়ূ ঝুকিপূন অঞ্চলের তরূণ ও তৃণমূল জনগোষ্ঠির কন্ঠস্বর স্থানীয় ও জাতীয় নীতি নিধারন প্র্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হবে। একই সাথে ক্ষতিকর সামাজিক মানষিকতা ভেঙ্গে ঐক্য সহমমিতা ও সম্মান প্রতিষ্ঠিত হবে এবং উন্নয়ন সংস্থা, সরকারী প্রতিষ্ঠান ও জনগনের মধ্যে সমন্বয় আর ও শক্তিশালী হবে।

উৎসবের মূল আকর্ষণগুলোর মধ্যে থাকবে:
• ইন্টারঅ্যাকটিভ প্রদর্শনী: স্থানীয় তরুণ সংগঠন, সরকারি ও অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস্তব অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী সমাধান।
• প্রমাণভিত্তিক অ্যাডভোকেসি: তরুণদের গবেষণা, বিতর্ক ও নীতি সংলাপের মাধ্যমে স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
• সাংস্কৃতিক পরিবেশনা: জারি গান, গম্ভীরা, যাত্রাপালা ও থিয়েটারের মতো লোকজ পরিবেশনার মাধ্যমে স্থানীয় সংস্কৃতি ও সমস্যা তুলে ধরা হয়েছে।
• কমিউনিটি সম্পৃক্ততা: র‌্যালী, খেলাধুলা ও সৃজনশীল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সামাজিক সংহতি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রত্যাশিত ফলাফল:
• জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের তৃণমূল কণ্ঠস্বর স্থানীয় ও জাতীয় নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় প্রতিফলিত হবে।
• ক্ষতিকর সামাজিক মানসিকতা ভেঙে ঐক্য, সহমর্মিতা ও সম্মান প্রতিষ্ঠিত হবে।
• উন্নয়ন সংস্থা, মানবিক সহায়তাকারী, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয় শক্তিশালী হবে।
• তরুণ ও জনগণ পরিবর্তনের স্থপতি হিসেবে উঠে আসবে।

একশনএইড বাংলাদেশের A4T (Action for Transformation) প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে এই উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। তরুণ নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে জলবায়ু সহনশীলতা, শান্তি, ন্যায় ও টেকসই উন্নয়নের পথচলা নিশ্চিত করাই এই উৎসবের লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *