বিশেষ প্রতিনিধি : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় ভোটকেন্দ্রে নারী, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জেন্ডার সংবেদনশীলতা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সিভিল সোসাইটি, গণমাধ্যমকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এ কর্মশালা প্রাণবন্ত আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়।

বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য জেন্ডার-সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাঠামো শক্তিশালীকরণ (GRIP) প্রকল্পের আওতায় শনিবার সাতক্ষীরা জেলা নির্বাচন অফিসের হলরুমে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সিদরাতুল মুনতাহা ও মনিটরিং অফিসার রেজা মাহমুদ তুষারের সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ প্রদান করেন সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ নাদিরুজ্জামান ও শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন।

জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মোঃ হযরত আলী, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার, সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, প্রতিবন্ধী প্রতিনিধি, দলিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সদস্যসহ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন।

প্রশিক্ষণে জেন্ডার সংবেদনশীল নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ, ভোটকেন্দ্রে হয়রানি ও সহিংসতা প্রতিরোধ, অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতিমালা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ঝুঁকি কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভাপতি মোঃ মাসুদুর রহমান বলেন, “অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে জেন্ডার সংবেদনশীলতা এখন সময়ের দাবি। প্রত্যেক ভোটার যেন নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ডিস্ট্রিক্ট রিপোর্টার আমিনা বিলকিস ময়না বলেন, জেন্ডার সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এতে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ আরও বাড়বে। নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সহিংসতামুক্ত ও সবার অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব।

প্রশিক্ষক মোঃ নাদিরুজ্জামান বলেন, ভোটকেন্দ্রে বৈষম্যহীন পরিবেশ তৈরি করতে কর্মকর্তাদের মানবিক ও সংবেদনশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি। অপর প্রশিক্ষক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন যোগ করেন, প্রশিক্ষণের জ্ঞান মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করতে পারলে সহিংসতামুক্ত নির্বাচন আয়োজন অনেক সহজ হবে।

প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সিদরাতুল মুনতাহা বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জেন্ডার সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করা মানে শুধু নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো নয়, বরং প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও সমান সুযোগ সৃষ্টি করা। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা মাঠপর্যায়ে বৈষম্য ও সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আমরা আশা করছি।

মনিটরিং অফিসার রেজা মাহমুদ তুষার বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন বাস্তবায়নে শুধু নীতিমালা নয়, বাস্তব প্রয়োগও গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহায়ক হবে। আমরা চাই, প্রতিটি ভোটকেন্দ্র হোক নিরাপদ, সহনশীল ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার একটি উদাহরণ।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে সহিংসতামুক্ত, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী পরিবেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন। কর্মশালায় অংশ নেওয়া গণমাধ্যমকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা বলেন, মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো গেলে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটদানে আগ্রহ বাড়বে। তারা স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে আলাদা সহায়তা ডেস্ক, সহজ প্রবেশপথ ও তথ্য সহায়তা নিশ্চিত করার সুপারিশও উঠে আসে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে বলে অংশগ্রগ্রহণকারীরা মত দেন। আলোচনায় কয়েকজন নারী প্রতিনিধি তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *