মেহেদী হাসান শিমুল : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের বয়ারবাতান গ্রামের মেধাবী তরুণ রিয়াজুল ইসলাম ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি। তবে হঠাৎ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৯ মাস আগে বিয়ে করা এই তরুণের অকালমৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

রিয়াজুল ইসলাম বয়ারবাতান গ্রামের সমশের আলী গাজীর ছেলে। গত কয়েক দিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনি ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২১ আগস্ট শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

রিয়াজুলের বন্ধু স্বাস্থ্য সহকারী আফজাল হোসেন বলেন, রিয়াজুল আমার বন্ধু। আমরা একই সঙ্গে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স করেছি। ২০২৩ সালে আমাদের মাস্টার্স সম্পন্ন হয়। এরপর রিয়াজুল ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করত। তবে তার ইচ্ছা ছিল প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়া। সে একবার বিসিএস পরীক্ষায়ও অংশ নিয়েছিল। সামনে আবার বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

রিয়াজুল ইসলামের বড় ভাই আক্তারুল ইসলাম আক্তার জানান, কয়েক দিন ধরে তার ভাই ডেঙ্গুতে ভুগছিলেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিয়াজুল ছিলেন শিক্ষিত, মেধাবী ও স্বপ্নবান তরুণ। সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে দেশের মানুষের সেবা করার ইচ্ছা ছিল তার। প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়ার লক্ষ্যে তিনি বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

প্রায় ৯ মাস আগে রিয়াজুল ইসলাম বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সংসারজীবন শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই তার এমন মৃত্যুতে স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যরা শোকে ভেঙে পড়েছেন। মৃত্যুকালে তিনি বাবা-মা, স্ত্রী, ভাই, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) বাদ জোহর বয়ারবাতান গ্রামের বাড়িতে রিয়াজুল ইসলামের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

রিয়াজুলের অকালমৃত্যুতে পরিবার, বন্ধু, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও বন্ধুদের আক্ষেপ যে তরুণ প্রশাসন ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ডেঙ্গুর কাছে তার সেই স্বপ্নের অকাল সমাপ্তি হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *