নিজস্ব প্রতিনিধি : সেনাবাহিনীর কাছে অঙ্গীকার করেও ফের অসহায় পরিবারকে পথ আটকে নির্যাতন করছে একটি চক্র। তাদের অত্যাচারে ক্রমাগত বিপদাপন্ন হয়ে পড়েছে এক কৃষক পরিবারের তিন সদস্য।

ঘটনাটি ঘটেছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে। ভুক্তভোগী তানজিলা বেগম জানান, দশ বছর আগে থেকে নির্যাতন করে আসা মিজানুর রহমান, জালাল উদ্দিন শেখ ও ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা শেখ সুজায়েত আলী গত ২৮ মার্চ শুক্রবার বিকেলে সেনা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আর নির্যাতন না করার লিখিত ভাবে অঙ্গীকার করেন।

অঙ্গীকারে বলেন, শক্তি ও ক্ষমতার বলে আটকে রাখা তানজিলার পরিবারদের চলাচলের রাস্তা খুলে দেবে, পল্লী বিদ্যুতের ছেড়া তার পুরনের ব্যবস্থা করবে। তাদের বিরুদ্ধে প্রণীত নালিশী মামলার রায় মেনে নিতে বাধ্য থাকবে। কিন্তু ৬মাস পেরিয়ে গেলেও তারা দুই ফুট পথ আজও ছেড়ে দেয়নি। এছাড়া সকল প্রকার নির্যাতন নিপীড়ন একইভাবে এখনও অব্যাহত রেখেছে।

বারবার হামলা নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধা মহিলা আবিদা বেগম বলেন, তিনি বারবার নির্যাতনের শিকার হয়ে এক’রকম গৃহবন্দি অবস্থার মধ্যে পড়েছে। মিজান, জালাল, সুজায়েত, আমিনুর, আসাদুল, শাহারুলরা সম্পর্কে তার (আবিদা বেগমের) সৎ ভাসুরের ছেলে। তারা অর্থবিত্তে ক্ষমতায় অনেক শক্তিশালী হওয়ায় তাদের উপর সব সময় নির্যাতন করে আসছে। এলাকায় তাদের মুখের উপর কেউ কোন কথা বলতে পারে না। তাদের অন্যায় অত্যাচার নিয়ে কেউ মুখ খুললে তাকে নানা ধরনের বিপদে ফেলে এবং নির্যাতন করে।

এ অবস্থায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশরা সাহায্য করলে তারা একটু মুক্ত হতে পারবে বলে তিনি জানান।

রহমত আলী জানান, তার বোন ভগ্নিপতির জমি দখল করে রেখেছে। তারা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা গনেশ দেবনাথকে বারবার অবগত করলেও তিনি তার দলের অতি ক্ষমতাবান মিজান সুজায়েতদের উপর কথা বলতে তিনি কোনদিন পারেন নি। তাই চেয়ারম্যান কোন সমাধানও করে দেননি এ পর্যন্ত।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মো: মোস্তাক আহমেদ এর শরণাপন্ন হলে তিনি এ বিষয়ে দ্রুত সমাধানের জন্য তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রাণী সরকারকে দায়িত্ব প্রদান করেন। ইউএনও বিষয়টি মিমাংসার জন্য মাগুরা ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইনছাফ মোল্লা’র কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেন। তবে মেম্বর এ ব্যাপারে যথাযথ প্রতিবেদন প্রদান করেন, এরপরও তারা এখনও গায়ের জোরে অসহায় এ পরিবারের প্রতি নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।

এ অবস্থায় তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রাণী সরকার ব্যবস্থা নিতে চেয়ারম্যান গনেশ দেবনাথের কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করতে বললে তিনি তানজিলাকে ডাকেন এবং বলেন এটি আসলে মিমাংসা করা কঠিন। এবং এ পরিস্থিতি সুরাহা করতে ঊর্ধ্বতনদের হস্তক্ষেপের জন্য তানজিলাকে জানিয়ে দেন।

তানজিলা এ অবস্থায় সাংবাদিকদের জানান, শুধু রাস্তা আটকে দেয়া না এরা আমাদের ৪শতক জমি দখল করে ভোগ দখল করছে। এ দুনিয়ায় তাদের পক্ষে কাজ করে ন্যায় পাইয়ে দেবে এমন কেউ নেই। প্রশাসন যদি তাদের দিকে মুখ তুলে চাইতো তাহলে দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যেতো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *