আব্দুর রহমান : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত মানোন্নয়নে বিদ্যালয়ভিত্তিক বিশেষ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। গত নভেম্বর ২০২৫ মাসে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এসেসমেন্ট টুলসের মাধ্যমে চূড়ান্ত মূল্যায়ন এবং ডিসেম্বর মাসে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়।

এসব মূল্যায়নে যেসব শিক্ষার্থী বাংলা, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি, তাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে বিদ্যালয়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে আগামী ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠাতে হবে।

কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে অতিরিক্ত সময় পাঠদান, বিষয়ভিত্তিক বাড়ির কাজ প্রদান, অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, ম্যানেজিং কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা, শ্রেণিকক্ষেই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ (যৌথ পঠন, বিশেষ দল গঠন, পিআর পদ্ধতি) এবং ধারাবাহিক মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পুনর্মূল্যায়ন এবং বছর শেষে সামগ্রিক মূল্যায়নের নির্দেশনাও রয়েছে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, আগামী ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রতিটি শ্রেণির বাংলা, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করতে হবে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর প্রথম সপ্তাহ থেকে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার ধরন অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করতে হবে। এসব কার্যক্রমের তদারকি করবেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রুহুল আমীন বলেন, ‘সাতক্ষীরা জেলার প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে নতুন শিক্ষাবর্ষে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে নতুন গতি আসবে।’ তিনি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *