ডেস্ক রিপোর্ট: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব এবং সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার বিচ্যুতি বা পক্ষপাতিত্ব বরদাশত করা হবে না। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে নির্বাচনী ডিউটিতে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের বিশেষ ব্রিফিং প্যারেডে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েলের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
ডিআইজি রেজাউল হক বলেন, ‘নির্বাচন গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। এই প্রক্রিয়াকে প্রশ্নাতীত রাখা প্রতিটি পুলিশ সদস্যের নৈতিক দায়িত্ব। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারেন, সেই আস্থার পরিবেশ তৈরি করাই হবে আপনাদের প্রধান লক্ষ্য।’ তিনি সাহসী ও ধৈর্যশীল থেকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার পরামর্শ দেন।
জানমাল রক্ষায় গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা একই দিন বিকেলে পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে সাতক্ষীরায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন ডিআইজি। সেখানে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় অধিকাংশ পুলিশ সদস্য মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। এই সুযোগে চুরি বা ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বাড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সাধারণ মানুষ যাতে তাঁদের মূল্যবান সামগ্রী নিরাপদে রাখেন, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান তিনি।
ডিআইজি আরও বলেন, অতিরিক্ত ব্যাংক লেনদেন বা সন্দেহজনক আর্থিক কর্মকা-ের খবর পেলে তা দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। অপরাধী বা চোরাকারবারিদের বিষয়ে তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল জানান, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তার পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
মতবিনিময় সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ব্রিফিং শেষে ডিআইজি জেলা পুলিশের সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত সদস্যদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় অতিরিক্ত ব্যাংক লেনদেন বা সন্দেহজনক আর্থিক কর্মকা-ের বিষয়ে পুলিশকে দ্রুত তথ্য দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। ডিআইজি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘অপরাধী বা চোরাকারবারিদের বিষয়ে তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। পুলিশ জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।’
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিকেরা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা বিষয়ে তাঁদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পুরো জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার) মো. মোকবুল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এসএম রাজু আহমেদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মিথুন সরকার।
এছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহীনুর চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. রাজীব, সহকারী পুলিশ সুপার (তালা সার্কেল) শেখ মোহাম্মদ নূরুল্লাহ, সহকারী পুলিশ সুপার (দেবহাটা সার্কেল) বায়েজীদ ইসলামসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ব্রিফিংয়ে অংশ নেন।







