বিশেষ প্রতিনিধি : কবিতার শব্দে, গানের সুরে আর আলোচনার গভীরতায় মঙ্গলবার দুপুর থেকে সাতক্ষীরার শিল্পকলা একাডেমির সভাকক্ষ যেন ফিরে গিয়েছিল এক সুকান্ত বেলার এক সংগ্রামী সময়ের ভেতর। ক্ষুধা, সাম্য ও মানবতার কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৭৯তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে কবির জীবন, সাহিত্য ও স্বপ্নভরা সংগ্রামের নানা দিক উঠে আসে আবেগঘন পরিবেশে।
জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, সাতক্ষীরা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ছাত্র শাখার আহ্বায়ক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা ফাইজা হোসেন অন্বেষা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কবির প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় কবিতা আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশন ও আলোচনা সভা। সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেন চৈতালি মুখার্জী, নয়ন কুমার ভট্টাচার্য, প্রতাপ কুমার সরদার, প্রীতম রায়চৌধুরী ও তৌফিক আর হাম। তাদের পরিবেশনায় সুকান্তের চেতনা, দ্রোহ ও মানবিক বোধ নতুনভাবে প্রাণ পায় উপস্থিত দর্শকদের মাঝে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফাইজা হোসেন অন্বেষা বলেন, মাত্র একুশ বছরের জীবনে সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যকে যে উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন, তা বিস্ময়কর। তাঁর কবিতায় শুধু বিদ্রোহ নয়, রয়েছে মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ। আজকের সময়েও বৈষম্য, অন্যায় আর মানবিক সংকটের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে তরুণদের কাছে সুকান্ত অনুপ্রেরণার নাম। সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চার মধ্য দিয়েই তাঁর চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন বলেন, সুকান্ত ভট্টাচার্য ছিলেন শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর। তাঁর কবিতায় ক্ষুধার্ত মানুষের আর্তনাদ যেমন উঠে এসেছে, তেমনি জেগে ওঠার আহ্বানও উচ্চারিত হয়েছে দৃঢ়ভাবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে তরুণদের সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এমন আয়োজন অত্যন্ত জরুরি। আমরা চাই, নতুন প্রজন্ম বই পড়–ক, কবিতা জানুক এবং মানবিক সমাজ গঠনে এগিয়ে আসুক।
আলোচনা সভায় চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ডিস্ট্রিক্ট রিপোর্টার আমিনা বিলকিস ময়না, রেহেনা পারভিন বীথি, তরিকুল ইসলাম অন্তর, আদৃকা সাবা খান নুফ ও নওরিন উলফাত অনন্যা কবির সাহিত্যকর্ম, প্রগতিশীল চেতনা ও সমাজভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনা সভায় চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ডিস্ট্রিক্ট রিপোর্টার আমিনা বিলকিস ময়না বলেন, সুকান্ত কেবল একজন কবি নন, তিনি ছিলেন সময়ের বিবেক। তাঁর লেখায় সাধারণ মানুষের বেদনা ও স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটেছে।
রেহেনা পারভিন বীথি বলেন, সুকান্তের কবিতায় দেশপ্রেম ও মানবতার শক্তিশালী আবেদন রয়েছে, যা পাঠককে আজও নাড়া দেয়।” তরিকুল ইসলাম অন্তর বলেন, “তরুণ বয়সেই তিনি সাহিত্যে যে গভীরতা সৃষ্টি করেছেন, তা বাংলা কবিতায় বিরল।
শেষপর্বে সম্মিলিত কণ্ঠে কবিতা ও গানের পরিবেশনায় সুকান্ত স্মরণ যেন রূপ নেয় এক মানবিক সাংস্কৃতিক কর্মযজ্ঞে। কবির স্বপ্নের সাম্য ও আলোর পৃথিবী গড়ার প্রত্যয় নিয়েই শেষ হয় ব্যতিক্রমী এ আয়োজন।
এই আয়োজন থেকে কবি সুকান্তের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে কন্ঠশিল্পী চৈতালী মুখার্জীকে আহবায়ক ও যন্ত্রশিল্পী নয়ন ভট্টাচার্য্যকে সদস্যসচিব করে সাতক্ষীরায় ১০১ সদস্য বিশিষ্ট উদযাপন কমিটি ঘোষণা করা হয়।







