নিজস্ব প্রতিনিধি : অবগত না করিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দু’ভাইয়ের নামে স্ট্যাম্প তুলে জাল দলিল সৃষ্টি করে হয়রানির প্রতিকার চেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবী করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
লিখিত অভিযোগ সরেজমিন সূত্রে জানাগেছে, শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ কুলতলী গ্রামের মৃত দেবেন্দ্রনাথ সরদারের ছেলে প্রশান্ত কুমার সরদার ও শ্রী নিরঞ্জন কুমার সরদার তারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। সাধারণভাবে জীবন যাপন এবং ঝামেলামুক্ত শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। সম্প্রতি অবগত হয় যে, কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়িয়া ইউনিয়নের মৃত আনোয়ার আলী গাজীর ছেলে জি এম শহিদুল ইসলাম এবং আব্দুর রশিদের মধ্যে আব্দুর রশিদ ১৯৯০ সালে শ্যামনগর সদরের হায়বাতপুর গ্রামে একটি জমির দলিল করেছে। তার ভাই শহিদুল ইসলাম তাকে নাকি ২৫ শতক জমি লিখে দিয়েছে। এই দলিল লেখার জন্য ২’শ টাকার তিনটি স্ট্যাম্প কেনা হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বী দুই ভাইয়ের নামে।
এদিকে জিএম শহিদুল ইসলাম বলছে “এটা জাল দলিল” তিনি কখনো তার ভাইকে জমি লিখে দেয়নি। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলা হয়েছে। মামলায় যে দলিল আদালতে দেওয়া হয়েছে সেই দলিলের স্ট্যাম্প হিন্দুদের নামে তোলা। অথচ তারা এটার কিছুই জানেন না।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, শ্যামনগর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ৪/১২/১৯৯০ সালে এই জমি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে আব্দুর রশিদের নামে। আব্দুর রশিদ ১৩/১১/১৯৯০ নিরঞ্জন সরদারের নামে ১টি ২০০ টাকার স্ট্যাম্প এবং ১৮/১১/১৯৯০ প্রশান্ত সরদারের নামে ২টি ২০০ টাকার স্ট্যাম্প ব্যাকডেটে দুই ভাইয়ের নামে ক্রয় করে এবং এই স্টাম্পের উপরেই দলিল সম্পাদন করা হয়েছে। জমির দাতা দেখানো হয়েছে জিএম শহিদুল ইসলামকে।
তিনি আদালতে বলছে তিনি তার ভাই আব্দুর রশিদের কাছে কখনো কোন জমি বিক্রি করেনি। এটা সম্পুর্ন পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে করা জাল দলিল। হিন্দু দুই ভাই বলেন- জাল দলিলে স্ট্যাম্প গুলি আমাদের নামে উঠানো হয়েছে কেন? তারা দুই ভাই মুসলিম সম্প্রদায়ের আর আমরা দুই ভাই হিন্দু সম্প্রদায়ের। সাধারণত যিনি জমি কেনেন গ্রহীতার নামে স্ট্যাম্প কেনা হয়। সে ক্ষেত্রে আমরা হিন্দু মানুষ আমাদের নামে কেন আব্দুর রশিদ জালিয়াতির মাধ্যমে স্ট্যাম্প কিনে কিভাবে দলিল করলেন?
আমরা বিষয়টির জানার পর গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। আমাদেরকে অন্ধকারে রেখে না জানিয়ে এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে জড়িত আব্দুর রশিদ এই ধরনের প্রতারণামূলক দলিল সম্পাদন করেছেন। দলিল লেখক এবং সাব রেজিস্ট্রার কোন কিছু না দেখে শুনে হিন্দুদের নামে ক্রয় কৃত জালিয়াতি স্ট্যাম্পে দলিল রেজিস্ট্রি করে দিলেন।
আমরা ধারনা করছি মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে দলিল লেখক এবং সাব- রেজিস্ট্রারের যোগসাজসে এ কাজ করেছেন। এতে করে আমরা দুই ভাই যেমন কিছুই না জেনেও ফেঁসে গেছি। অন্যদিকে জাল দলিলকারী চক্রান্তে আদালতে ছুটেতে হবে আমাদের দুই ভাইকে।
সাংবাদিকদের মাধ্যমে অবগত করছি যে, ওই দলিলের তিনটি স্ট্যাম্প সম্পর্কে আমরা দুই ভাই কোন কিছুই জানিনা। ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলাম বলেন আমরা শান্তি প্রিয় অসহায় মানুষ হিসেবে ওই জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা রেজিস্টারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।







