মেহেদী হাসান শিমুল : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের তালতলা গ্রামের অসহায় দিনমজুর মো. রমজান আলী (বাবু) (৩৮) আজ জীবনযুদ্ধের এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। স্ত্রী ও তিন কন্যা সন্তান নিয়ে কোনো রকমে চলা এই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই তার জীবন ও পরিবারের স্বাভাবিক ছন্দ থামিয়ে দিয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন বাড়ির নারিকেল গাছে ওঠার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গিয়ে রমজান আলীর মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর তিনি দীর্ঘদিন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে হলে তার মেরুদণ্ডে জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। এ জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা।
কিন্তু একজন দিনমজুরের পক্ষে এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। ফলে সময়মতো অস্ত্রোপচার করাতে না পারায় তার শরীরে সংক্রমণ দেখা দেয় এবং ক্ষতস্থান জটিল আকার ধারণ করে। বর্তমানে তিনি ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। কর্মক্ষমতা হারিয়ে অসহায় অবস্থায় বাড়িতেই দিন কাটছে তার। রমজান আলীর স্ত্রী সেলিনা খাতুন জানান, তাদের ১৫ বছরের সংসারে তিনটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
বড় মেয়ে মারিয়া খাতুন ষষ্ঠ শ্রেণিতে, মেজ মেয়ে ফারিয়া (১০) তৃতীয় শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে লুকাইয়া (৩) এখনও শিশু। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলায় সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি বড় মেয়ের নতুন শ্রেণির বই কেনার সামর্থ্যও তাদের নেই।
তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শিশু ভাতার কার্ড ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো সরকারি সহায়তা তারা পাননি। বর্তমানে চিকিৎসা, খাদ্য ও সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয় নির্বাহ করতে পরিবারটি চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিনহাজ মোর্শেদ বলেন, “রমজান আলী অত্যন্ত অসহায় একজন মানুষ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন তিনি। এখন চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। ভিটাবাড়ি ছাড়া তাদের আর কোনো সহায়-সম্বল নেই। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে তার চিকিৎসা সম্ভব হবে এবং পরিবারটি নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে।”
অসহায় রমজান আলী সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও মানবিক হৃদয়ের মানুষের কাছে চিকিৎসা ও পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আন্তরিক আবেদন জানিয়েছেন। একটু মানবিক সহায়তাই হয়তো তাকে আবার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে এবং তার তিন কন্যার মুখে হাসি ফিরিয়ে আনতে পারে।







