নিজস্ব প্রতিনিধি : জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোগ ও অভিযোজন কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় উপকূলীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, যুবসমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সমন্বিত সামাজিক পদক্ষেপ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের পানশী রেস্তোরাঁয় ‘কমিউনিটি অ্যাকশন ফর ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং: ইয়ুথ ফর ক্লাইমেট জাস্টিস’ প্রকল্পের আওতায় তথ্য সংগ্রহ, ডকুমেন্টেশন ও শিক্ষা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন ডেভেলপমেন্ট (হেড) সংস্থা , অর্থায়নে ক্লাইমেট জাস্টিস রেজিলিয়েন্স ফান্ড এবং সহযোগিতায় সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন। হেডের নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইনের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী রেহেনা পারভীন।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনী সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার অ্যাডভোকেট মনির উদ্দীন, মানবাধিকার সংগঠন স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত, সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন এবং চ্যানেল-২৪-এর জেলা প্রতিনিধি আমিনা বিলকিস ময়না।

এ সময় উন্নয়নকর্মী আফজাল হোসেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রতিনিধি তরুণ কুমার, সাংবাদিক ফারুক রহমান, হেডের নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান বাদশাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সাংবাদিক, শিক্ষার্থী, সামাজিক কর্মী ও যুব প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে লুইস রানা গাইন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ, ডকুমেন্টেশন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন,বেড়িবাঁধ,নিরাপদ পানির সংকট ও জীবিকার অনিশ্চয়তার মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে বাস্তবভিত্তিক অভিযোজন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

সভায় প্রকল্পের আওতায় মাঠপর্যায়ে সংগৃহীত তথ্য, স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা এবং আশাশুনি, শ্যামনগর, মুন্সীগঞ্জ ও সুন্দরবন শিক্ষা সফর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *