নিজস্ব প্রতিনিধি : ধর্ম অথবা বিশ্বাসের স্বাধীনতা, পারস্পরিক সম্প্রীতি, মানবাধিকার, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে খুলনায় দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের আয়োজনে এবং ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ: স্ট্রেংদেনিং ফোর্ব এনগেজমেন্ট ইন পোস্ট-ইলেকশন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের সহযোগিতায় গত ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর খুলনার সিএসএস আভা সেন্টারে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

সাতক্ষীরা জেলার জন্য আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় পবিত্র মোহন দাসের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায়ের ২০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি, ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক ঘৃণা ও সহিংসতা প্রতিরোধ এবং একটি শান্তিপূর্ণ, সমতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে নাগরিকদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা। দুই দিনের প্রশিক্ষণে মানবাধিকার, সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের ওপর সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার ঝুঁকি চিহ্নিত করা এবং তা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়।

কর্মশালায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় উত্তেজনা প্রতিরোধ ও উত্তেজনা প্রশমনের জন্য আগাম সতর্কতা প্রটোকল বিষয়ে। কোনো এলাকায় সামাজিক বা ধর্মীয় উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করা, তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন এবং পরিস্থিতি অবনতির আগেই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিভিন্ন পদ্ধতি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে শেখানো হয়। এ সময় ব্যবহারিক অনুশীলন, বিভিন্ন পরিস্থিতির উদাহরণ এবং ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার ব্যবহারিক দিক তুলে ধরা হয়।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ এলাকার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সাতক্ষীরা থেকে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ সরকার, অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, সাবেক মহিলা দল সভানেত্রী ফরিদা আক্তার বিউটি, সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, সংস্কৃতিকর্মী, লেখক ও সৃজনশীল সংগঠক শেখ সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যাপক ভারতেশ্বরী বিশ্বাস, জেলা নাগরিক কমিটির নেতা আলী নূর খান বাবুল, ধর্মীয় নেতা শেখ মাহবুব রহমান, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হেনরী সরদার, অধ্যক্ষ হোসেন আলী, অধ্যাপক চন্দ্র শেখর, অধ্যাপক মহিউদ্দীন আহমেদ, অ্যাডভোকেট সেলিনা আক্তার, অধ্যাপক রেবেকা খাতুন, মহুয়া মঞ্জুরী, নাছিমা খাতুন, রায়সুল, তপন সরকার প্রমুখ।

হাঙ্গার প্রজেক্ট এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার রুবিনা আক্তার, সুশান্ত রায়, রাজু জোবেদ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। আয়োজকরা বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি শুধু কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিষয় নয়; এটি একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজের অন্যতম ভিত্তি। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা গেলে ঘৃণা, বিভাজন ও সহিংসতার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এ ধরনের প্রশিক্ষণ স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্বশীল নাগরিক নেতৃত্ব তৈরির পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *