নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে সৈরাচার আওয়ামী লীগের নাশকতার প্রতিবাদে কৃষকদলের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে অংশগ্রহণের জন্য সমাবেশে যাওয়ার পথে দলীয় নেতা-কর্মীদের গাড়ি বহরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষকদলের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষকদলের আয়োজনে ও উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক রোকনুজ্জামানের সভাপতিত্বে কালিগঞ্জে নাশকতার প্রতিবাদে কৃষকদলের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি দেওয়া হয়।
এই কর্মসূচি বাস্তয়ানের জন্য গত কয়েকদিন পূর্বে উপজেলা কৃষকদলের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক রোকনুজ্জামানের নেতৃত্বে নাশকতার প্রতিবাদে কৃষকদলের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে অংশ গ্রহণের জন্য মঙ্গলবার বিকাল ৩টা থেকে দক্ষিণশ্রীপুর, কুশুলিয়া, চাম্পাফুল, বৃষ্ণপুর ইউনিয়ন থেকে কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদে বাস, ইজিবাইক ও পিকআপে করে শতশত নেতা-কর্মী যাওয়ার পথে গাড়িবহর ফুলতলা মোড়ে পৌঁছালে জেলা বিএনপির সদস্য শেখ এবাদুল ইসলাম ও শেখ নুরুজ্জামানের ছেলে নাজমুলের নেতৃত্বে অতর্কিত হামলা চালায়।
এসময় কৃষকদলের হোগলা ওয়ার্ডের সভাপতি রিজাউদ্দীন, সাবেক সদস্য আবুল কালাম সবুজের হাত ভেঙে যায়। এছাড়া ছাত্রদলনেতা শামিম হোসেন মুন্না, ধলবাড়িয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্য সচিব শুব্রত কুমার খাঁ, কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব আরিফুল হোসেন ছোটন সহ ৪০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে নারায়ণপুর সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এব্যাপারে কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক রোকনুজ্জামান বলেন, সৈরাচার আওয়ামী লীগের নাশকতার প্রতিবাদে কৃষকদলের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি দিলে জেলা বিএনপির সদস্য শেখ এবাদুল ইসলাম তার ফেসবুকে আমাদের কর্মসূচি স্থগিত করার আহবান জানান। এতে করে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কিন্তু বিষয়টি কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জানতে পেরে ওসি শাহিনুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে দুই গ্রুপের নেতা-কর্মীদের নিয়ে বসেন এবং কর্মসূচি পালন করতে দুইগ্রুপকে পৃথক দুইটি স্থানে পালন করার সিদ্ধান্ত দেন।
সে অনুযায়ী আমরা কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে আমাদের কর্মসূচি পালষনের ঘোষনা দেই। ৩টার পর থেকে কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা, ভাড়াশিলা, তারালী, চাম্পাফুলর মৌতলা, কৃষ্ণনগর, বৃষ্ণপুর, দক্ষিণশ্রীপুর, কুশূলিয়া, মৌতলা সহ সকল ইউনিয়ন থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করে। কিন্তু দক্ষিণশ্রীপুর, কুশুলিয়া, চাম্পাফুল, বৃষ্ণপুর ইউনিয়ন থেকে কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদে বাস, ইজিবাইক ও পিকআপে করে শতশত নেতা-কর্মী যাওয়ার পথে গাড়িবহর ফুলতলা মোড়ে পৌঁছালে জেলা বিএনপির সদস্য শেখ এবাদুল ইসলাম ও শেখ নুরুজ্জামানের ছেলে নাজমুলের নেতৃত্বে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ৪০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মী আহত হয়।
এদিকে অতর্কিত হামলার ঘটনায় কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষকদলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে সন্ত্রাসী হামলার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষকদলের আহবায়ক সালাউদ্দীন লিটন, কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক রোকনুজ্জামান সহ উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।







