নিজস্ব প্রতিনিধি : মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহর এই আধ্যাত্মিক বাণীর স্লোগানে মানবতাবাদী বাউল সম্রাট সাধক ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে ডি.বি ইউনাইটেড হাইস্কুলের আয়োজনে প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক কঙ্কন কুমার দাসের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডি.বি ইউনাইটেড হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মমিনুর রহমান মুকুল। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন নবম শ্রেণীর ছাত্র তানভীর হোসেন। গীতা পাঠ করেন দশম শ্রেণীর ছাত্রী শ্রীদেবী দত্ত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “লালনের মানবতাবাদী দর্শন, জাত-ধর্মের বিভেদ অতিক্রম করে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার শিক্ষা এবং বাংলার লোকসংস্কৃতিতে তাঁর অবদান অপরিসীম। সমাজে যখন অস্থিরতা ও প্রতিহিংসাবোধের প্রকাশ ঘটে, তখন ফকির লালনের কথা মনে হয়। এই সুবর্ণ পলিমাটির দেশে লালনের মতো অসংখ্য মরমি সাধকের জন্ম হয়েছে। এ দেশের মানুষের জীবনদর্শনের প্রকাশ ঘটেছে তাদের সংগীত ও জীবনাচরণের মাধ্যমে।
ফকির লালন সাঁইয়ের জীবনদর্শন ও সৃষ্টিশীলতা মূলত মানবতাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা এবং আত্মশুদ্ধির এক অনন্য জীবনদর্শন। তিনি ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও সামাজিক ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে মানুষকে স্থান দিয়েছেন। লালনদর্শনের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হলো ‘মানুষ’। তিনি মনে করতেন, ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’। সব মানুষের ভেতরেই ঈশ্বর বা ‘মনের মানুষ’ বসবাস করেন। তাই আলাদা করে কোনো উপাসনালয় বা বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে মানুষের সেবা ও মনকে চেনা বড় সাধনা।”
বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহর এই আধ্যাত্মিক জীবন আদর্শ তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন ডি.বি ইউনাইটেড হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক কঙ্কন কুমার দাস। সিনিয়র শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান, সুকুমার সরকার প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুকুমার সরকার ও শিক্ষার্থী শ্রীদেবী দত্ত ফকির লালন শাহর উল্লেখযোগ্য কিছু সংগীত পরিবেশন করেন।
এসময় ডি.বি ইউনাইটেড হাইস্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডি.বি ইউনাইটেড হাইস্কুলের সহকারি শিক্ষক রমেশ সরদার।







