নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় অনলাইন জুয়ায় নি:স্ব হচ্ছে উঠতি বয়সী যুবকরা, ধরাছোয়ার বাইরে প্রতারকরা! জেলার একটা বড় অংশের উঠতি বয়সি কিশোর কিশোরী তরুণ তরুণীরা। এমনকি মধ্যবয়সীরাও আসক্ত হয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়ায়। প্রতিদিন হাজার হাজার যুবক-যুবতী ক্লিকে উড়িয়ে দিচ্ছে যাচ্ছে হাজার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা।
এই জেলায় অনলাইন জুয়া সামাজিক ব্যধিতে পরিণত হয়ে পড়েছে। অনলাইন জুয়ায় আসক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, মধ্য বয়সী নারী পুরুষ, রিকসাচালক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ প্রতিনিয়ত নিঃস্ব হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন তারকাদেরকে জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারণা চালাতে দেখা যায় অনলাইনে। সূত্র জানায়, সারা দেশের অনলাইন জুয়ার মস্টারমাইন্ডদের একজন শাহিনুর রহমান ওরফে মোবাইল শপ শাহিন।
তার সহযোগী আছে আরও ১০-১২জন এদের নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন স্তরে এজেন্ট, সাব-এজেন্ট থেকে এক থেকে দেড়’শ এক্সপার্ট যুবক-যুবতী এই লাইন পরিচালনা করে। অভিযুক্ত শাহিনুর রহমান সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর এলাকার আবু সাঈদ গাজীর ছেলে। বর্তমানে সবুজের রসুলপুরে বসবাস করে। দরিদ্র ঘরের সন্তান হলেও অনলাইন জুয়ার ডিলার হয়ে এখন বনে গেছে কোটিপতি। বর্তমানে তার রয়েছে অঢেল সম্পদ।
শাহিনুর চড়েন নামি-দামি ব্রান্ডের প্রাইভেট কার ও পাজারুতে। তার সহযোগী মূল এজেন্টদের ১০-১২ জনের একটি বিশেষজ্ঞ টিম। ইতোপূর্বে পুলিশের অসাধু কর্মকর্তার সাথে আঁতাত করে প্রতাপের সাথে চালিয়ে যাচ্ছে তার জুয়ার এজেন্ট ব্যবসা। তার গাড়িতে ব্যবহার করেন পুলিশ স্টিকারসহ ভিআইপি হর্ণ।
তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই প্রশাসনের লোক দিয়ে তুলে এনে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। সূত্রটি আরও জানায়, এক বছর আগে শাহিনুরের আপন মামাতো ভাই এই জুয়ার কারণে আত্মহত্যা করে। শাহিনুর রহমান দুই থেকে তিন মাস পরপর বিলাসবহুল প্রাইভেট কার পরিবর্তন করে গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন সময় নারী সঙ্গী ও সহযোগীদের নিয়ে কক্সবাজার-কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ করতে যায়।
লাখ টাকা খরচ করে মোজাফফর গার্ডেনসহ বিভিন্ন রিসোর্টে করেন মাদক ও নারী নিয়ে পার্টি দেন। অভুক্তভোগীরা ক্ষতিগ্রস্তরা আরও জানায়, শাহিনুরের আপন মেজো ভাই মাসুদ মাদকসেবী, দুইভাই একই সাথে মাদক সেবন করে। দুই ভাই একাধিক কলগার্ল বিয়ে করে, তাদেরকে দিয়ে মাদক পরিবহনসহ এই জুয়া পরিচালনা করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার এক সহযোগী জানান, এর আগেও অনেকবার তার নামে অভিযোগ হয়েছে, সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। তারপরও থেমে নেই তার অপরতা।
অন্যদিকে, 1x Bet, Bet BDT, Xbajee, TK-999, TAKABET সহ মোটামুটি দেশে প্রচলিত অধিকাংশ জুয়ার সাইটের জেলার গডফাদার শাহিনুর রহমান।
বর্তমানে শাহিনুর সাতক্ষীরা পৌরসভার রসুলপুর প্রথম জুয়া নিয়ে এসে নিজে পরিচালনা করে এবং কয়েক হাজার যুবক-যুবতির সঙ্গে ভাগাভাগি করে পুরো জেলায়সহ দেশের সকল জেলায় তার নেটওয়ার্ক রয়েছে। রাতরাতি বনে যায় কোটি কোটি টাকার মালিক শাহিনুর হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও র্বতমানে সাতক্ষীরা শহরে তার বিলাসবহুল চারটা বাড়ির মালিক।
বাইপাস সড়ক সংলগ্ন একটা জমি কিনে ৮০ লক্ষ টাকা দিয়ে সম্পত্তি গোপনে ভগ্নিপতি ও আত্মীয়স্বজনের নামে বেনামে কিনেছেন। আপন ভাই মাসুদ ও শহীদের ছেলের টুকু কে দিয়ে সাতক্ষীরা জেলার যুবসমাজের ক্ষতি করছেন। একসময় রিকশা চালায় জীবনযাপন করা শাহিনুরের সম্পত্তি হিসাব করা কঠিন। ক্যাসিনো এবং অনলাইন জুয়ার আড়ালে তার মাদক ব্যবসা করে বিয়ে করেছেন চারটি।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জুয়ার সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে সাতক্ষীরা শহর, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগরে। এসব এলাকায় জুয়ার প্রভাবে কিশোর গ্যাং সদস্যরা প্রতিনিয়ত অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। ভূক্তোভোগী পরিবারের একজন জানান, মোবাইলে জুয়া খেলে টাকা ইনকামের নেশায় অল্প বয়সী কিশোর তরুণরা নিঃস্ব হচ্ছে। আর এসব টাকা জোগাড় করতে গিয়ে চুরি ডাকাতি করছে। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হয়রানি করা।
ফলে তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস কেউ পায় না। বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে ও সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হুমকি এবং নির্যাতন চালায়। বিগত সরকার তিন হাজারের বেশি জুয়ার সাইট বন্ধ করেছে বলে জানা গেছে। সিআইডি, ডিবি ও র্যাবের হাতে ধরা পড়েছে জুয়ার সাইট পরিচালনাকারী শতাধিক ব্যক্তি। তবে প্রতিটি সাইট বন্ধ করার পরপর এই চক্র ভিপিএন দিয়ে সাইটগুলো আবার সচল করে।
সাতক্ষীরার গ্রাম থেকে শহর চায়ের দোকান থেকে শপিং মল সবজায়গায় পৌঁছে গেছে। জুয়ার টাকা জোগাড় না করতে পেরে উঠতি বয়সী তরুণরা চুরি-ছিনতাই এর মত অপরাধে ঝুঁকছে। জোটবদ্ধ হয়ে কিশোর গ্যাং তৈরি করে রাতে চেতনানাশক স্প্রে ব্যবহার করে সর্বস্ব লুট করে নিচ্ছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহিনুর রহমান বলেন, আমি মোবাইলের ব্যবসা করতাম। জুয়ার সাথে সম্পৃক্ত না।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শামিনুল হক বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য নেই। বিস্তারিত জানতে পারলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।







