নিজস্ব প্রতিনিধি : অধ্যাপিকা জান্নাতুল বুশরা বাবার সকল জমি আত্মসাৎ করে আপন ভাই ও গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, মিথ্যা তথ্য ও হয়রানিমূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভুক্তভোগী ও গ্রামবাসীদের আয়োজনে রবিবার বেলা ৩ টার সময় কালিগঞ্জ উপজেলার ৪ নং দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের শ্রীকলা গ্রামে উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগি আব্দুস সবুর শিমুল, ফুফু ফরিদা বেগম, গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন-ফিরোজ আহমেদ, সিরাজুল ইসলাম, ইউনুস আলী, রহমত আলী, রফিকুল ইসলাম, ইদ্রিস আলী, লুৎফন নেছা, লিপি, আকলিমা, কনা, রিয়া, ফজিলা প্রমুখ। মানববন্ধনে স্থানীয় জামায়াত, বিএনপির কর্মী সমর্থক, শিক্ষক সহ গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষরা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে গ্রামবাসীরা নির্যাতেনর সিকার আব্দুস সবুরের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শান্তিপূর্ণ বসবাস করতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মানববন্ধনে শ্রীকলা গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের বড় ছেলে গোবিন্দপুর তরফদার পাড়া জামে মসজিদের ইমাম আব্দুস সবুর জানান, পৈত্রিক সূত্রে শ্রীকলা মৌজায় ৬৩৩ খতিয়ানে, ১১৬৬ দাগে আমার পিতার ৬ শতক বসত ভিটার জমি রয়েছে। আমরা ২ ভাই ও ২ বোন। আমার পিতা আব্দুর সাত্তার (৭১) বছর বয়সে ব্রেন স্ট্রোক জনিত কারনে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পরে গত ৩ এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি তারিখে মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি আরো বলেন, আমার পিতা ব্রেন স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে থাকা অবস্থায় আমার বোন অধ্যাপিকা জান্নাতুল বুশরা আমার মা এবং অন্য দুই বোনকে ম্যানেজ করে আমাকে এবং আমার ছোট ভাই কে স্বত্ত্ব ফাকিদিয়ে জালিয়াতি করে আমার পিতার ৬শতক জমি কালিগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে প্রায় ৩ বছর পূর্বে অধ্যাপিকা জান্নাতুল বুশরার নামে লিখে নেয়।

আমার পিতা বেঁচে থাকাকালিন ২০২৩ সালে অধ্যাপিকা জান্নাতুল বুশরা জালিয়াতি করে হেবানামা (দান পত্র) করে জমি লিখে নেওয়ার পরে আমাকে এবং আমার পিতাকে বসত ভিটা থেকে অবৈধ ভাবে উচ্ছেদ করে। তার পর থেকে আমি আমার পিতা, স্ত্রী ও দুই সন্তান কে নিয়ে জিরনগাছা বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতাম।

ওই ভাড়া বাড়িতে আমার পিতা মারা গেলে তাকে আমার শ্বশুর বাড়ি গোবিন্দপুর গ্রামের নিয়ে এসে গোসল করিয়ে আমাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করি। দাফন শেষে গ্রামবাসীরা আমাকে আমার পিতার পুরাতন ঘরে বসিয়ে দেয়। আমি বর্তমানে আমার পিতার নির্মান করা ওই ঘরে বসবাস করছি। সম্প্রতি অধ্যাপিকা জান্নাতুল বুশরা আমাকে পিতার বসত ভিটা থেকে আবারও উচ্ছেদ করতে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে আমার উপর অত্যাচার ও নির্যাতন শুরু করেছে।

আমাকে হয়রানি করতে অধ্যাপিকা জান্নাতুল বুশরা বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সাতক্ষীরা ফৌজদারি কার্যবিধির আইনে ১০৭/১১২(গ) ধারায় মামলা করে। আমি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে আমার পিতার বসতভিটায় বসবাস করতে চাই। ওয়ারেশ হিসেবে আমার পিতার সম্পত্তি থেকে আমার প্রাপ্য জমি যাতে পাই সে ব্যবস্থা করতে এবং আমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। এব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহদয় এর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *