নিজস্ব প্রতিনিধি : আধুনিক সাতক্ষীরার রূপকার প্রাণনাথ রায় চৌধুরীকে স্মরণ ও ঈক্ষণ-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল চারটায় শহরের নাজমুল সরণীস্থ ম্যানগ্রোভ সভাঘরে সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংগঠন ঈক্ষণ সাংস্কৃতিক সংসদ আয়োজিত “আধুনিক সাতক্ষীরার রূপকার জমিদার প্রাণনাথ রায় চৌধুরী স্মরণসভা” এবং ঈক্ষণের ৩৮তম বর্ষের প্রথম সংখ্যা “ফারাক্কা লংমার্চ” পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ঈক্ষণের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি ও সংগঠক পলটু বাসার’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মাসুদুল হক’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসু দেব বসু এবং সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাশেম।

আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কবি শহিদুর রহমান, কবি গাজী শাহজাহান সিরাজ, বিশিষ্ট ছড়াকার আহমেদ সাব্বির, ফারাক্কা লংমার্চে অংশ নেয়া ডা. হাবিবুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উদীচী সাতক্ষীরার সভাপতি শেখ সিদ্দিকুর রহমান, কবি শিরীন সাদী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন, কবি স ম তুহিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিকার মনিরুজ্জামান ছট্টু, অনন্যা, শারাবান তহুরা করবী, অনুভা আদ্রি ও তাইয়্যেব।

বক্তারা বলেন, নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ‘বুড়ন পরগণা’ নিলামে খরিদ করেন তাঁরই কর্মচারী বিষ্ণুরাম চক্রবর্তী। তিনি ১৭৯৭ সালে সাতক্ষীরায় এসে স্থায়ী বসতি স্থাপন করেন এবং সাতঘর কুলীন ব্রাহ্মণ এনে পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় বসতি করান। সেখান থেকেই “সাতঘরিয়া” হতে সাতক্ষীরার নামকরণ। বিষ্ণুরাম চক্রবর্তীর পুত্র প্রাণনাথ রায় পরবর্তীতে ‘চৌধুরী’ খেতাব গ্রহণ করেন এবং আধুনিক সাতক্ষীরার রূপকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

প্রাণনাথ রায় চৌধুরী সাতক্ষীরার মানুষের কল্যাণে অসংখ্য জনহিতকর কাজ করেন। শহরের মধ্য দিয়ে খাল খনন, পৌরবাসীর সুপেয় পানির জন্য দীঘি খনন, ১৯১৯ সালে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে ওয়াটার ট্যাঙ্ক নির্মাণসহ তাঁর অবদান আজও স্বর্ণাক্ষরে খচিত। ১৮৬৯ সালে সাতক্ষীরা সদরকে পৌরসভায় উন্নীত করে তিনি প্রথম পৌর মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন কবি মনিরুজ্জামান মুন্না, সাকিবুর রহমান বাবলা, নাজমুল হাসান পল্টু, ফারজানা রুবি মুক্তি, অধ্যাপক ইদ্রিস আলীসহ জেলার অসংখ্য কবি, সাহিত্যপ্রেমী ও গুণিজন। অনুষ্ঠানের আলোচনায় প্রাণনাথ রায় চৌধুরীর অবদানকে সাতক্ষীরার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয় এবং তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *