হাফিজুর রহমান শিমুল : প্রচলিত মাটি, খড় ও বাঁশের বদলে সোলার ককশিট ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে দুর্গাপ্রতিমা। সঙ্গে থাকছে ভাসমান সেতু, ডিজিটাল আলোকসজ্জা ও বিশেষ লাইটিং শো। ব্যতিক্রমী এ আয়োজনকে ঘিরে দুর্গাপূজা শুরুর আগেই দর্শনার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার আমিয়ান বাথুয়াডাঙ্গা সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে এবার এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে আমিয়ান যুব সংঘ।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১ টার সময়ে সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার সোলার ককশিট। প্রচলিত উপকরণের বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় যুবকেরা। মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে শেষ পর্যায়ে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে তৈরি করা হয়েছে ভাসমান সেতু। মণ্ডপজুড়ে বসানো হচ্ছে ডিজিটাল লাইটিং ও নানা ধরনের আলোকসজ্জা।

অষ্টমী, নবমী ও দশমীর রাতে থাকছে বিশেষ লাইটিং শো। মণ্ডপ এলাকায় রয়েছে রাধাগোবিন্দ মন্দির ও শিবমন্দিরও। আমিয়ান যুব সংঘের সহসভাপতি প্রতীপ ঘোষ বলেন, মানুষকে ভিন্নধর্মী কিছু উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই এবার বড় পরিসরে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। সোলার ককশিটের প্রতিমার পাশাপাশি ভাসমান সেতু, ডিজিটাল আলোকসজ্জা ও বিশেষ লাইটিং শোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

যুব সংঘের সহসাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার ঘোষ বলেন, ‘প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে ককশিট দিয়ে প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য মণ্ডপ এলাকায় বিভিন্ন আকর্ষণ রাখা হয়েছে। আশা করছি, দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসবেন।প্রতিমার কাজ পুরোপুরি শেষ না হলেও মণ্ডপে দর্শনার্থীদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিমা ও মণ্ডপের বিভিন্ন ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় দূর-দূরান্তের মানুষের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মালঞ্চ রানী ঘোষ বলেন, প্রতিমার কাজ শেষ হওয়ার আগেই অনেকে দেখতে আসছেন। ককশিটের প্রতিমা, ভাসমান সেতু ও আলোক সজ্জা এবারের আয়োজনকে অন্য মণ্ডপের তুলনায় আলাদা করেছে।দর্শনার্থীদের চাপ বিবেচনায় মণ্ডপে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভাসমান সেতুর ভেতর দিয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও গ্রামবাসীর সহযোগিতায় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আমিয়ান গৌরী মঠের পূজারি শ্যামল সরকার বলেন, এবার এখানে পঞ্চমবারের মতো দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ব্যতিক্রমী আয়োজনের কারণে এবার দূর-দূরান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন তারা।আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের পূজার সার্বিক বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রতিমা তৈরির শিল্পীকে দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং আনুষঙ্গিক কাজে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

গ্রামবাসী, বিভিন্ন ব্যক্তি ও সরকারি অনুদানের মাধ্যমে পূজার ব্যয় নির্বাহ করা হচ্ছে বলে জানান আমিয়ান যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক দ্বীপজয় ঘোষ।যুব সংঘের সহকোষাধ্যক্ষ রাকেশ ঘোষ বলেন, দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মণ্ডপের আকর্ষণ বাড়াতে লাইটিংয়ের পাশাপাশি সাউন্ড সিস্টেমেরওজ বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, কালিগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মিলন কুমার ঘোষ বলেন, আমিয়ান বাথুয়াডাঙ্গার আয়োজনটি উপজেলার অন্যতম বড় আয়োজন। ককশিটের প্রতিমা, ভাসমান সেতু ও দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা এবার বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতিও ভালো রয়েছে।কালিগঞ্জ উপজেলায় এবার মোট ৫৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে আমিয়ান বাথুয়াডাঙ্গাসহ কয়েকটি মণ্ডপে দর্শনার্থীর চাপ তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে পূজা উদযাপন পরিষদ।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ব্যতিক্রমী ককশিটের প্রতিমা, ভাসমান সেতু ও চোখধাঁধানো আলোকসজ্জার কারণে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবে আমিয়ান বাথুয়াডাঙ্গা সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপ সাতক্ষীরার অন্যতম আকর্ষণীয় পূজামণ্ডপ হিসেবে দর্শনার্থীদের নজর কাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *