তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রবাসীর স্ত্রী আমেনা বেগম (৪০)-কে মারধর করে কানের লতি ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার ছোট জা হাসনা হেনা মুন্নি (৩০) ও এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে রিয়া আক্তার মারিয়ামও আহত হয়েছেন।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলার ধুলান্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে তালা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সরেজমিনে দেখা যায়, আমেনা বেগমের কানের লতির অংশ ছিঁড়ে গেছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। ঘটনাস্থলে বাঁশের লাঠি ও মেহগনির ডাল পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার পরনের কাপড় ছেঁড়া এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

মুন্নির মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং রিয়ার পায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় জানান, বাড়ির পাশের জমিতে বেড়া দেওয়া নিয়ে প্রবাসী আহাদ শেখের স্ত্রী আমেনা বেগমের সঙ্গে মৃত আমিন উদ্দীন শেখের ছেলে হাফিজুর রহমানের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, হাফিজুর ও তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার বাঁশের লাঠি ও মেহগনির ডাল দিয়ে আমেনা বেগমকে মারধর করেন। এ সময় তার কানের দুল টান দিতে গিয়ে কানের লতি ছিঁড়ে যায়। পরে তাকে বাঁচাতে গেলে মুন্নি ও রিয়াকেও মারধর করা হয়।

ভুক্তভোগী আমেনা বেগম বলেন, “আমার স্বামী ও দেবর প্রবাসে থাকেন। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে হাফিজুর জোরপূর্বক আমাদের দখলীয় জমিতে বেড়া দেন। আমি বাধা দিলে তারা আমাকে মারধর করেন। এ সময় আমার কানের দুল টান দিয়ে ছিঁড়ে নেওয়ার সময় কানের লতি ছিঁড়ে যায়। এছাড়া আমার গলার এক ভরি সোনার চেইন নিয়ে যায়।

আমার জা ও মেয়ের কাছ থেকেও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়।” তিনি আরও জানান, পরে অভিযুক্তরা লাঠি নিয়ে বাড়ির গেটে অবস্থান করে তাদের ভেতরে আটকে রাখে। পরে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান বলেন, জমিতে বেড়া দেওয়া নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে। কানের লতি কীভাবে ছিঁড়েছে তা তিনি জানেন না। স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহিদুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, “মারামারির খবর পেয়েছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *