তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ত্রিবার্ষিক নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ। শিক্ষক সমাজের অন্যতম এই সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচন ঘিরে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে চলছে ব্যাপক আলোচনা, মতবিনিময় ও প্রচার-প্রচারণা।
আগামী ১৬ মে অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন। শিক্ষক ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট ও দোয়া চাইছেন তারা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পদে দু’জন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে উপজেলার প্রায় ৮০০ জন শিক্ষক প্রতিনিধি ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। আগামী ১৬ মে তালা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সুভাষিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল ইসলাম এবং কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদীশ কুমার হালদার। সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন কুমিরা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক সজীবুদ্দৌলা এবং একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
এছাড়া কোষাধ্যক্ষ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন খলিশখালী মাগুরা কে এম এস সি কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অজয় কুমার দাশ এবং ফলেয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফিরোজ কবির।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রার্থীদের ব্যস্ততা। উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন তারা| ভোট ও দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। শিক্ষকদের অধিকার আদায়, পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার অঙ্গীকার করছেন প্রার্থীরা।
সভাপতি প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়, পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং শিক্ষক সমিতিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর সংগঠনে পরিণত করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য| নির্বাচিত হলে সকল শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবো।
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী সজীবুদ্দৌলা বলেন, গত মেয়াদে শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছি| অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে এবং শিক্ষক সমাজের কল্যাণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আবারও সবার সমর্থন চাইছি।
প্রধান শিক্ষক জগদীশ কুমার হালদার বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদা ও পেশাগত স্বার্থ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। নির্বাচিত হলে শিক্ষক সমাজের দাবি-দাওয়া বাস্তবায়ন এবং সংগঠনকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তরুণ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক সংগঠন গড়ে তুলতে চাই| শিক্ষক সমাজের কল্যাণে কাজ করতে সবার সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছি।
এদিকে সাধারণ শিক্ষকদের মাঝেও নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক কক্ষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই নির্বাচন। এখন দেখার বিষয়, আগামী ১৬ মে শিক্ষক সমাজের নেতৃত্ব কার হাতে তুলে দেন ভোটাররা।







