মেহেদী হাসান শিমুল : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের জাহানাবাজ গ্রামে আট সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন মোটরভ্যানটি চুরি হয়েছে। এতে পরিবারটি চরম বিপাকে পড়েছে। ঋণের টাকায় কেনা ভ্যান হারিয়ে এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নুর ইসলাম।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ব্রহ্মরাজপুর বাজারে ভ্যান চালানোর উদ্দেশ্যে বের হন নুর ইসলাম। পরে ব্রহ্মরাজপুর চার রাস্তার মোড় থেকে ফিংড়ী যাওয়ার কথা বলে কয়েকজন ব্যক্তি তার ভ্যান ভাড়া করেন। গন্তব্যে যাওয়ার পথে বড়খামার গাজীবাড়ি মসজিদের প্রায় ১০০ গজ দূরে তাকে একটি ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে পাশের একটি বাড়ি থেকে মালামাল নিয়ে আসতে বলা হয়। এ সময় কৌশলে তার মোটরভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা হেলমেট পরিহিত আরও দুজনকে দেখা যায় বলে জানান তিনি।
পরবর্তীতে আশপাশের কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার বিষয়ে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করেন নুর ইসলাম।
চোখে-মুখে হতাশা আর কান্নাজড়িত কণ্ঠে ব্রহ্মরাজপুর বিডিএফ প্রেসক্লাবে এসে নুর ইসলাম জানান, তিনি মৃত ছদর উদ্দিনের ছেলে। আগে পা-চালিত ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। দুই মাস আগে ব্র্যাক থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে মোটরভ্যানটি কেনেন। ওই ভ্যান চালিয়েই চলত তার আট সদস্যের পরিবারের সংসার।
তিনি আরও জানান, প্রতি সপ্তাহে ঋণের কিস্তি হিসেবে ১ হাজার ৩০০ টাকা পরিশোধ করতে হয়। একদিকে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে একমাত্র উপার্জনের বাহন হারিয়ে এখন পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করা অসহায় এই পরিবারটির উপার্জনের আর কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই।
এ অবস্থায় নুর ইসলামের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন, সাতক্ষীরার মাননীয় সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের প্রত্যাশা, মানবিক সহায়তায় একটি নতুন মোটরভ্যান পেলে আবারও কর্মজীবনে ফিরতে পারবেন নুর ইসলাম এবং বাঁচবে আট সদস্যের পরিবারটির জীবিকার অবলম্বন।







