খুলনা, ১৮ শ্রাবণ (আগস্ট ০২) : বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আজ (রবিবার) খুলনা পাইকগাছা উপজেলার রাড়–লী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের বাড়ি সংলগ্ন চত্বরে তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জীবন ও কর্মের ওপর ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবনী মেলা, আলোচনা সভা, গাছের চারা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন।

প্রধান অতিথি বলেন, স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় শুধু একজন বিজ্ঞানীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সফল উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারক। বিদেশে শিক্ষকতা ও গবেষণার সুযোগ থাকলেও তিনি জন্মভূমিকে কখনো ভুলে যাননি এবং ব্যক্তিগত বিলাসিতার চেয়ে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। মাতৃভূমির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসার অন্যতম প্রমাণ হলো ইংল্যান্ডের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার সুযোগ ছেড়ে দেশে ফিরে আসা।

তিনি আরও বলেন, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় দেশের জন্য যে অবদান রেখে গেছেন, তার যথাযথ মূল্যায়ন ও সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের দায়িত্ব। তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণ এবং জন্মভিটার সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এ কাজে স্থানীয় জনগণকে আওয়াজ তুলতে হবে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ রায়কে দেশ-বিদেশে আরো ব্যাপকভাবে পরিচিত করে তোলা সহজ হবে।

খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা, সহকারী পুলিশ সুপার (ডি-সার্কেল) মো: আমির হামজা, প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক মো: মহিদুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক মো: আব্দুল মোমিন সানা, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: রুহুল আমীন, পাইকগাছা বিএনপির আহবায়ক ড. আব্দুল মজিদ, রাড়–লী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়াম্যান আবুল হাসেম, সিনিয়র সাংবাদিক শেখ দিদারুল আলম, পিসি রায় স্মৃতি সংসদের সহসভাপতি ড. মো: হারুন-অর-রশিদ, ভূবন মোহিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার রায় প্রমুখ বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী পাইকগাছা উজেলা প্রশাসন ও রাড়–লী ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় খুলনা জেলা প্রশাসন এ অনুষ্ঠানের আ।ে করে।

অতিথিরা পিসি রায়ের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *