নিজস্ব প্রতিনিধি: উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জনকল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ০২ নং পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদকে একটি দুর্নীতিমুক্ত, আধুনিক ও আদর্শ মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ নজরুল ইসলাম। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি ইউনিয়নবাসীর দোয়া, আশীর্বাদ ও সমর্থন কামনা করেছেন।

মোঃ নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া ইউনিয়নের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম আলহাজ্ব পিয়ার আলী। ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। শিক্ষাজীবনে তিনি সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পাস করেন।

বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রজীবন থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তিনি দেবহাটা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ও উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে একাধিক রাজনৈতিক মামলায় তাঁকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে এবং বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে। রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি এলাকায় একজন পরীক্ষিত রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন বলে তাঁর সমর্থকেরা জানান।

রাজনীতির পাশাপাশি নজরুল ইসলাম একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। তিনি বায়িং হাউসের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং আমদানি-রপ্তানি ও মৎস্য ঘের ব্যবসা পরিচালনা করেন। এ ছাড়া তিনি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বাধন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান, সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্সের সদস্য এবং কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের আজীবন সদস্য। তাঁর স্ত্রী নিগার সুলতানা একজন গৃহিণী। তাঁদের দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে বাধন স্কলারশিপ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন এবং ছোট ছেলে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষের বিপদে-আপদে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন নজরুল ইসলাম। ব্যক্তিগত অর্থায়নে পারুলিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহ ময়দান, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সহযোগিতা করে আসছেন। ক্রীড়াঙ্গনেও তাঁর অবদান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে জনসেবায় নিজেকে আরও সম্পৃক্ত করতে চান তিনি।

আসন্ন পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, “আমি পারুলিয়া ইউনিয়নবাসীর দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। নির্বাচিত হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব। আমার কাছে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ সমান। হিন্দু-মুসলিমসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করব।”

তিনি আরও বলেন, “ইনশাআল্লাহ, জনগণের ভালোবাসা ও ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক একটি মডেল ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তুলতে চাই। ইউনিয়ন পরিষদ হবে সাধারণ মানুষের প্রকৃত সেবাকেন্দ্র। মানুষ যেন সহজে, হয়রানিমুক্তভাবে ও সম্মানের সঙ্গে তাদের ন্যায্য সেবা পেতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করার চেষ্টা করব। পাশাপাশি এলাকার রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করব।”

নজরুল ইসলাম আরও জানান, পারুলিয়া ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জনগণের মতামত ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সরকারি বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো তাঁর পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। তিনি এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমর্থনও কামনা করেছেন।

এদিকে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নজরুল ইসলাম তাঁর দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে পারুলিয়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লা ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ করছেন। এ সময় তিনি নিজের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরছেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। পাশাপাশি ভোটারদের কাছে দোয়া, আশীর্বাদ ও সমর্থন চাইছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *