শেখ সিদ্দিকুর রহমান : সাতক্ষীরার বৈশাখ মানেই রঙ, উৎসব আর প্রাণের উচ্ছ্বাসে ভরা এক সামষ্টিক আনন্দের আবহ। সেই আবহকে আরও সজীব করে তুলতে জেলা প্রশাসন, সাতক্ষীরা আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী বৈশাখী অনুষ্ঠানমালার ধারাবাহিকতায় গত ১৭ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যায় শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের মুক্তমঞ্চে মঞ্চস্থ হলো এক মনোজ্ঞ আবৃত্তি প্রযোজনা—‘ঐ নতুনের কেতন ওড়ে’।
সাম্প্রতিক সাহিত্য ও আবৃত্তি সংসদ এবং সাতক্ষীরা নাট্য দল (সানাদ)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রযোজনাটি ছিল শিল্প, সাহিত্য ও নাট্য ভাবনার এক সম্মিলিত উপস্থাপন। প্রযোজনাটির গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ছিলেন শরিফুল বাসার, যিনি দক্ষতার সঙ্গে সাহিত্যিক আবহ, আবৃত্তির আবেগ ও নাট্যরূপকে একসূত্রে গেঁথে একটি পরিপূর্ণ শিল্পরূপ প্রদান করেন।
খায়রুল বাসার রচিত ‘হালখাতা’ ও ‘বাস্তুভিটা’ নাটক অবলম্বনে নির্মিত এই প্রযোজনায় অংশগ্রহণ করেন আমিরুল বাসার, মাহফুজা লিপি, শরিফুল বাসার, শহিদুল ইসলাম, শ্যামলী চৌধুরী, রফিকুল বাসার, শিলা ইমাম, শারাবান তহুরা করবী, অলীন বাসার, অনুভা অদ্রি ও তায়েফ বাবু। তাঁদের প্রত্যেকের কণ্ঠস্বর, অভিব্যক্তি ও মঞ্চ উপস্থিতি প্রযোজনাটিকে করে তোলে জীবন্ত ও হৃদয়গ্রাহী।
মুক্তমঞ্চের সামনে উপচে পড়া শত-শত দর্শক-শ্রোতা নিঃশব্দে উপভোগ করেন এই আবৃত্তি পরিবেশনা। চারপাশে তখন বৈশাখের চিরায়ত রূপ—বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সাজানো নানা দোকানের পসরা, রঙিন পোশাকে সজ্জিত মানুষের আনাগোনা, আর উৎসবমুখর পরিবেশে ভেসে আসা প্রাণের উচ্ছ্বাস।
এই প্রাণচঞ্চল, বর্ণিল পরিবেশের মাঝেই ‘ঐ নতুনের কেতন ওড়ে’ যেন হয়ে ওঠে এক শিল্পিত উচ্চারণ—নতুনের আহ্বান, ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন এবং মানবিক বোধের এক নান্দনিক প্রকাশ। সার্বিকভাবে, এ আয়োজন শুধু একটি প্রযোজনা নয়—এটি ছিল সাতক্ষীরার সাংস্কৃতিক চেতনার এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি, যা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মনে দীর্ঘস্থায়ী আবেশ ছড়িয়ে দেয়।







