গাজী হাবিব : ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান হবে জিরো টলারেন্স। কোনো পুলিশ সদস্য মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলেও ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক কারবারিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’ -খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের এমন কঠোর ঘোষণার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরায় এক সপ্তাহব্যাপী মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অনলাইন জুয়া, মব সন্ত্রাস এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে আরও সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ প্রশাসনের আয়োজনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিআইজি এসব কথা বলেন।
সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা হয়। এতে বিভিন্ন অপরাধের বর্তমান চিত্র, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং জনসেবামুখী পুলিশিং নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। মাদক কারবারিদের পাশাপাশি যারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় কিংবা নানাভাবে সহযোগিতা করে, তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরা সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় এখানে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ডিআইজি আরও বলেন, সাতক্ষীরায় অনলাইন জুয়ার বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনেক তরুণ এ অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী চক্র এবং আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন অনলাইন পেজের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বলেন, বর্তমান সরকার একটি গণতান্ত্রিক সরকার। জনগণের জানমাল রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের আস্থা অর্জনে পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করতে হবে। পুলিশকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সব সদস্যকে সততা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাও দেন তিনি।
সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্তে চোরাচালান, অবৈধ ঘাটের কার্যক্রম, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, খুন-হত্যা, থানায় সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির অভিযোগ, মব সন্ত্রাস, কিশোর অপরাধ, মাদক পাচার এবং অনলাইন জুয়ার বিস্তারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় সাংবাদিকরা জেলার বিভিন্ন এলাকার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, অবৈধ ঘাটের কার্যক্রম, সড়কে যানজট, থানায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি গণমাধ্যমের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয় আরও জোরদারের আহ্বান জানান তারা।
সভা শেষে ডিআইজি ঘোষণা দেন, সাতক্ষীরা জেলায় আগামী এক সপ্তাহব্যাপী মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ অভিযানে মাদক কারবারি, চোরাচালান চক্র, অপরাধী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযানের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।







