জি. এম. আমিনুর রহমান : সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের পূর্ব কৈখালী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা সংস্কার না হওয়ায় ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ করেছেন স্থানীয় যুবক ও এলাকাবাসী। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটিতে পানি ও কাদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রাস্তায় ধান রোপণ করেছেন তারা।
রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১১টা পূর্ব কৈখালী গ্রামের মরহুম আলহাজ আদম গাজীর কেয়ারের রাস্তা হিসেবে পরিচিত সড়কের কাদাযুক্ত অংশে ধান রোপণ করে প্রতিবাদ জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ বছর ধরে রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার বিভিন্ন অংশে পানি জমে যায়। পাশাপাশি সৃষ্টি হয় হাঁটুসমান কাদা। এতে সাধারণ পথচারী থেকে শুরু করে কোনো ধরনের যানবাহনই স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে না।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের কাছে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে এবার ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ হিসেবে কাদায় ধান রোপণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন তারা।
স্বেচ্ছাসেবী মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘আমরা উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করি। আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, আমাদের একমাত্র চলাচলের রাস্তাটি অবহেলিত। দীর্ঘ সময়ে এখানে কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।’
তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটিতে হাঁটুসমান কাদা তৈরি হয়। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে। রাস্তাটি দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে না পারায় বিকল্প হিসেবে নদীপথে ট্রলারে করে রোগী নিয়ে যেতে হয়। এতে সময় যেমন বেশি লাগে, তেমনি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে।
স্থানীয় রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ এবাদুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তাটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বারবার কথা বলেও কোনো সমাধান পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে এলাকার যুবক ও সাধারণ মানুষ মিলে রাস্তায় ধান রোপণ করে প্রতিবাদ করেছি। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চাই।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আমি ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতিবাদের বিষয়টি জানতে পেরেছি। রাস্তাটি দ্রুত কার্পেটিং করা হবে।’
কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম বলেন, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বিজিবি সড়ক নামে রাস্তাটি কার্পেটিংয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদনের ব্যবস্থা করেছিলেন। তবে একটি পক্ষ রাস্তাটি কেটে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ায় তখন কাজটি এগোয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমানে রাস্তাটি ‘সীমান্ত সড়ক’ নামে কার্পেটিংয়ের জন্য অনুমোদন হয়েছে। খুব দ্রুতই রাস্তাটির কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করবে। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন পূর্ব কৈখালী এলাকার সাধারণ মানুষ।







