পরিতোষ কুমার বৈদ্য, শ্যামনগর(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে স্থানীয় অভিযোজন কৌশল (এলএলএ) বিষয়ক এক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম আটুলিয়া এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

আটুলিয়া এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক হেনা পারভীনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় আটুলিয়া ইউনিয়নের চরের বিল, দক্ষিণ-পশ্চিম আটুলিয়া ও আটুলিয়া বড়কুপট এলাকার আগ্রহী ও উদ্যোগী কৃষকেরা অংশ নেন। প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেন শতবাড়ির সদস্য সুবোল সরদার। কর্মশালায় উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বস্তা, বেড ও টাওয়ার পদ্ধতিতে চাষাবাদ, স্যালাইন পদ্ধতি, লবণসহনশীল ফসলের জাত নির্বাচন এবং অচাষকৃত উদ্ভিদবৈচিত্র্যের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব, জৈব বালাইনাশকের ব্যবহার, মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কম্পোস্ট সার তৈরি ও প্রয়োগের বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরা হয়।

প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে কৃষাণি অঞ্জনা মণ্ডল বলেন, “আমি বাড়িতে বস্তায় বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করি। তবে বস্তা পদ্ধতিতে রসুন চাষের কথা শুনে আমার খুব ভালো লেগেছে।” তিনি জানান, প্রশিক্ষণে নতুন কিছু চাষপদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন, যা বাড়িতে প্রয়োগ করা সম্ভব।

যুব কৃষক মধুসূদন মণ্ডল বলেন, বাজার থেকে বীজ কিনে অনেক সময় প্রত্যাশিত ফলন পাওয়া যায় না। কখনো অল্প দিনের মধ্যেই গাছ মারা যায়। তখন অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। তাঁর মতে, বাড়িতে স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ ও ব্যবহার করতে পারলে ভালো ফলনের সম্ভাবনা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কৃষাণি সাগরিকা বলেন, লবণসহনশীল জাত নির্বাচন করে চাষাবাদ করলে উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকায় ফসল টিকিয়ে রাখা সহজ হবে। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি আয় ও সঞ্চয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষায়ও এসব চর্চা গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান নিজের বাড়িতে কাজে লাগানোর পাশাপাশি সংগঠনের অন্য সদস্যদের মধ্যেও তা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

কর্মশালায় স্থানীয় অভিযোজন কৌশল সরেজমিনে পরিদর্শন, বিশ্লেষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় জ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা ও কৃষি উৎপাদনের নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করা সম্ভব। একই সঙ্গে স্থানীয় জাতের বীজ সংরক্ষণ, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও এসব অভিযোজন কৌশল কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন বারসিকের সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার, আটুলিয়া ইউনিয়ন গ্রীন কোয়ালিশনের সহসভাপতি মো. মিজানুর রহমান এবং বারসিকের আলিমুজ্জামান লিঠু, দেবদাস মণ্ডল ও সাইদুল ইসলাম প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *