নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, জমি দখল, নারী নির্যাতন ও মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও নারীলোভী সন্ত্রাসী হেমায়েত বাহিনীর গুন্ডাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অত্যাচারের শিকার ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে ১৪ জুলাই মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের শহিদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক শহিদ মিনারের সামনে উক্ত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী গ্রামের মৃত শেখ আজিজুর রহমানের কন্যা নাজমিন সুলতানা। এসময় উপস্থিত ছিলেন নাজমিন সুলতানার মেজো বোন শারমিন সুলতানা লাকী, বোন জামাই জাহাঙ্গীর আলম।

লিখিত ব্কব্যে নাজমিন সুলতানা বলেন, আমার এবং আমার পরিবারের পক্ষ থেকে কালিগঞ্জ উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের দুদলী গ্রামের মৃত মীর রমজান আলীর ছেলে সৈয়দ হেমায়েত আলী ছোট (বাবু) এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি ১০-১৫ জনের একটি সংগঠিত বাহিনী গড়ে তুলে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন। এই বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে জমি ও মৎস্যঘের দখল, চলাচলের রাস্তা বন্ধ, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, চাঁদা দাবি এবং প্রতিবাদকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। হেমায়েত ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা বিএনপি’ র দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিরপরাধ ব্যাক্তিদেরকেও জড়িয়ে মামলায় ফাসাচ্ছে। এসব ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং অনেকে ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।

সৈয়দ হেমায়েত আলী অতীতে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য থাকাকালে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা বিতরণে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও সরকারি সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগে এলাকায় সমালোচিত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা মনে করি, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক দলটির ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন করছে।

০৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে শেখ ফয়েজ আলী ও শেখ মজিদসহ কয়েকজন ব্যক্তি আমার বাড়ির সামনে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা অবরুদ্ধ করে। আমি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সাময়িকভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেয়। পরবর্তীতে আমি কালিগঞ্জ থানায় জিডি নং-১২৬৫, তারিখ ২৮/১২/২০২৫ দায়ের করি। এছাড়া আমাদের অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি সৈয়দ হেমায়েত আলী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘটনায় সাবেক সেনা সদস্য নাসির উদ্দীনের পরিবারের ওপর হামলা, চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনায় কালিগঞ্জ থানার মামলা নং-২৫, তারিখ ২৫/০৪/২০২৬ দায়ের করা হয়। আরেকটি ঘটনায়, আমার আপন ছোট বোন তানিয়া সুলতানা, যিনি একজন পরিবার কল্যাণ সহকারী, তার অভিযোগ অনুযায়ী ০১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে সৈয়দ হেমায়েত আলী ও আওরঙ্গজেব তাকে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে আক্রমণ করেন এবং ব্যাপক মারধর করেন। পরে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নং ১৫, তারিখ ২০/০৫/২০২৬ রুজু হয়।

এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও মামলাগুলোর তদন্ত ও আসামীদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। আসামীরা নিয়মিত প্রকাশ্যে এলাকায় ও থানার আশেপাশে চলাচল অব্যাহত রেখেছে। আমরা আরও আশঙ্কা করছি যে, মামলাগুলোর তদন্তকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে, সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জহির রায়হানের ভূমিকা নিয়ে আমাদের গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তিনি মামলার আলামত সংগ্রহও করেননি। আমাদের অভিযোগ, তিনি মামলার গুরুত্বপূর্ণ ধারাগুলো বাদ দিয়েছেন, যা সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

আমরা চাই, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে তদন্ত হোক এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হোক। দোষীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আমাদের দাবিসমূহ হলো- ১. সৈয়দ হেমায়েত আলী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ২. দায়েরকৃত মামলাগুলোর সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। ৩. তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জহির রায়হানকে প্রত্যাহার করে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা। ৪. এলাকার সাধারণ মানুষের জানমাল ও চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। ৫. জনসাধারণের চলাচলের রাস্তাটি পূর্বের মতো ঘেরা বেড়া উঠিয়ে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হোক। ৬. অপরাধী হেমায়েতের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করতে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি জানাচ্ছি ৭. অভিযোগের বিষয়ে রাজনৈতিক দল সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন-এ দাবি জানাচ্ছি। পরিশেষে, আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং দেশের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীতভাবে আবেদন জানাই, যেন আমাদের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হয়।
##

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *