নিজস্ব প্রতিনিধি : কুষ্ঠরোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, কুসংস্কার ও সামাজিক বৈষম্য দূর করতে সাংবাদিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা শহরের পানসির কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত ‘কুষ্ঠরোগ ও এর পরিণতি বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন’ অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেশ টিভির স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খ্রিস্টিয়ান সার্ভিস সোসাইটির (সিএসএস) পরিচালক স্বাস্থ্য সাজ্জাদুর রহিম পান্থ ।

বিশেষ অতিথি বক্তব্য দেন, চ্যানেল-২৪-এর জেলা প্রতিনিধি আমিনা বিলকিস ময়না, প্রথম আলোর ইমতিয়াজ উদ্দিন, নাগরিক টিভির কৃষ্ণ মোহন ব্যানার্জি, মানবজমিনের এসএম বিপ্লব হোসেন, বাংলা ট্রিবিউনের আসাদুজ্জামান সরদার, সমকালের কিশোর কুমার, চ্যানেল ওয়ানের নাজমুস শাহাদাত জাকির, স্বদেশ প্রতিদিনের হাবিবুর রহমান সোহাগ, টাইমস টুডের মিলন বিশ্বাস, গ্লোবাল টিভির রাহাত রাজা, খোলা কাগজের ইব্রাহিম খলিল, বার্তা ২৪ মৃত্যুঞ্জয় রায়, সাতক্ষীরার সকালের মফস্বল বার্তা সম্পাদক আলতাফ হোসেন বাবু, ঢাকা পোস্টের ইব্রাহিম খলিল, সিএসএস শরিফুল ইসলাম।

ওরিয়েন্টেশনে, কুষ্ঠরোগ নিরাময়যোগ্য এবং বিনামূল্যে চিকিৎসা পাওয়া যায়। তাই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ, দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি কুষ্ঠরোগীদের প্রতি ভয়, কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করতে মানবিক ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়,সাতক্ষীরায় বর্তমানে ৪১ কুষ্ঠ রোগী আছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্য বলেন, কুষ্ঠ একটি প্রাচীন রোগ। প্রাচীনকাল থেকেই কুষ্ঠ নিয়ে আমাদের সমাজে নানা ধরনের ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে। অনেকে মনে করেন, কুষ্ঠ কোনো অভিশাপের ফল বা পাপের কারণে হয়। আবার কেউ কেউ মনে করেন, কুষ্ঠ তেমন কোনো রোগ নয়। এসব ভুল ধারণা ও অসচেতনতার কারণে অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা নেন না।আমরা কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, সারা বাংলাদেশেই এখনো কুষ্ঠ রোগী পাওয়া যাচ্ছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠ রোগীর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। আমরা ২০১৩ সাল থেকে বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে আসছি। এখনো এসব এলাকায় কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হচ্ছে।

কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা সরকারিভাবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা পর্যায়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু অনেক সময় শরীরে দাগ বা অনুভূতিহীনতা থাকলেও ব্যথা না থাকায় মানুষ এটিকে সাধারণ সমস্যা মনে করে অবহেলা করেন। ফলে সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়ায় একজন কুষ্ঠ রোগী ধীরে ধীরে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়তে পারেন।তাই কুষ্ঠ রোগ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, দ্রুত রোগী শনাক্ত করা এবং সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কুষ্ঠমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। ওরিয়েন্টেশন পরিচালনা করেন, সিএসএস প্রজেক্ট অফিসার, মোঃখালেকুজ্জামান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *