নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার ও সহনশীলতা নিয়ে বাস্তবায়িত একটি প্রকল্পের সমাপনী ও অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রকল্প চলাকালে বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রম, অর্জন ও অভিজ্ঞতা নিয়ে অনুষ্ঠানে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি প্রকল্প শেষ হলেও সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরিতে ‘কমিউনিটি অ্যাকশন ফর ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং প্রজেক্ট’-এর সমাপনী ও অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন ডেভেলপমেন্ট (হেড)। এতে অর্থায়ন করেছে ক্লাইমেট জাস্টিস রেজিলিয়েন্স ফান্ড এবং সহযোগিতা করেছে সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন।
হেডের নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী রেহেনা পারভীন। অনুষ্ঠানে সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সভারঞ্জন শিকদার উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সোহাগ মিলু, সাতক্ষীরা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস এম রফিকুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সৌমেন মৈত্র এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন, চ্যানেল-২৪-এর জেলা প্রতিনিধি আমিনা বিলকিস ময়না, হেডের নির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান বাদশাহ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও যুব প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে মানেই সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে এমনটি নয়। প্রকল্পের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নিজ নিজ জায়গা থেকে কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, সাতক্ষীরা একটি উপকূলীয় জেলা। এখানকার মানুষকে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের জলবায়ু ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় শুধু কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্পের ওপর নির্ভর না করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, তরুণ, সাংবাদিক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া এবং জলবায়ু বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তন, এর প্রভাব এবং উপকূলীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সাংবাদিকরা সংবাদ ও প্রতিবেদন তৈরি করেন। এসব প্রতিবেদনের মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা মানুষের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্পের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের স্বীকৃতি হিসেবে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
এ ছাড়া প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়া তরুণদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে প্রকল্প চলাকালে বাস্তবায়িত কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রকল্পের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় মানুষের সমস্যা সমাধানে সম্মিলিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
##







