বিশেষ প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কলারোয়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন থেকে সিরাজুল ইসলাম (৮০) নামের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ। তিনি উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের হিজলদী গ্রামের মৃত ওমর আলী মোড়লের পুত্র।
রবিবার (২৯ জুন) দুপুরে এ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। পরে রাতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার শেষে তার লাশ দাফন সম্পন্ন হয়।
কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম পারিবারিক কারণে গত কয়েক মাস যাবত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের ৪র্থ তলার একটি কক্ষে একা বসবাস করতেন। একই সাথে তিনি ভবনের নৈশ্যপ্রহরীর দায়িত্বও পালন করতেন। রবিবার দুপুর প্রায় হয়ে গেলেও তার দেখা না পাওয়ায় পার্শ্ববর্তী লোকজন ও কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা তার খোঁজে তার রুমের কাছে গিয়ে দেখেন ভিতর থেকে দরজা আটকানো। জানালা দিয়ে দেখা যায় উনি খাটে ঘুমিয়ে আছেন।
অনেক ডাকাডাকির পরেও যখন কোন সাড়া শব্দ হয়নি তখন আমাকে (ইউএনও) জানালে তাৎক্ষনিক পুলিশ ও হাসপাতালের চিকিৎসককে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। পরে সকলের উপস্থিতিতে দরজার ছিটকানি ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে তাকে মৃত অবস্থায় দেখা যায়। চিকিৎসক ডা.বাপ্পি প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান হয়তো স্ট্রোকজনিত কারণে শনিবার রাতের প্রথম প্রহরে ঘুমন্ত অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে তার মৃত্যু হতে পারে। পুলিশও সুরতহাল রিপোর্ট করে স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতীয়মান করেন। পরে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে গার্ড অব অনার শেষে তার দাফন সম্পন্নের প্রক্রিয়া করা হয়।’
কলারোয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম জানান, রবিবার বেলা ১টার দিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করা হয়। তার স্ত্রী, ২ পুত্র ও ৩ কন্যা রয়েছে। এক পুত্র বিদেশে থাকেন। আরেক পুত্র জামাল হকের আবেদনের প্রেক্ষিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের লাশ দাফনের অনুমতি দেয়া হয়।
এদিকে রবিবার রাতেই গ্রামের বাড়ি হিজলদী ফকিরপাড়ায় গার্ড অব অনার শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলামের লাশ দাফন করা হয় বলে জানা গেছে। পুলিশের গার্ড অব অনার প্রদানকালে ইউএনও জহুরুল ইসলাম, ওসি শেখ সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।







