নিজস্ব প্রতিনিধি : সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের গাভা গ্রামে সরকারি কালভার্ট ও খালের মুখ আটকে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।
অতিবৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে যখন সাধারণ মানুষ চরম মানবিক বিপর্যয়ে দিন কাটাচ্ছেন, তখন গাভা গ্রামের মৃত সন্তোষ সরকারের ছেলে সুকুমার সরকার (৪৮) ও তার ভাইদের এমন স্বার্থপর কর্মকাণ্ডে ফুসে উঠেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র সংলগ্ন সরকারি কালভার্টের মুখে ঘণপাটা (বাঁশের পাটা) দিয়ে এবং রাস্তার পশ্চিম পাশের ঘেরের জল আটকে রেখে মূল খালে জল সরবরাহের স্বাভাবিক পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চারপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি জলের নিচে তলিয়ে গেছে।
জলাবদ্ধতা নিষ্কাশন হতে না পারায় তৈরি হয়েছে তীব্র জলজট ও চরম দুর্ভোগ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সুকুমার সরকার ও তার দুই ভাই—বড় ভাই জগদীশ সরকার এবং মেজ ভাই প্রদীপ সরকার—দীঘদিন ধরে এলাকায় বেপরোয়া কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। সুকুমার সরকারের বিরুদ্ধে এলাকায় মামলা-বাণিজ্যে লিপ্ত থাকা, থানা ও কোর্টে দালালি এবং অবৈধ চোরাচালানের (স্মাগলিং) সাথে যুক্ত থাকারও নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে। তাদের এমন অবৈধ ও প্রভাব খাটানো কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ মুখ ফুটে প্রতিবাদ করার সাহস পেতেন না।
বর্তমানে অতিবৃষ্টির এই সংকটের মুখে কালভার্ট আটকে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের এমন অমানবিক পদক্ষেপে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এলাকায় বসবাসকারী শত শত পরিবার। চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পথচারীদের চলাচলও স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা জানান, যেখানে সারা দেশে অতিবৃষ্টিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা, সেখানে এমন ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল চরম অমানবিকতার শামিল।
ফিংড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মো. লুৎফর রহমান এর সাথে এ প্রতিবদেক কথা বললে, চেয়ারম্যান বলেন, আমিও তাকে বাঁশের পাটা তুলে দিতে বলেছি, কিন্তু সে শোনেনি।
এ প্রতিবদেক সুকুমার রায়ের সাথে ০১৭১২ ৫৮৪০৭৮ ফোনে বারবার ফোন দিয়েছেন কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অনতিবিলম্বে সরকারি কালভার্ট ও খালের মুখ থেকে অবৈধ পাটা অপসারণ করে জল নিষ্কাশনের পথ সুগম করার জন্য তারা সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।







