ডেস্ক রিপোর্ট : সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নওয়াবেঁকিতে সরকারি খাস খতিয়ানের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত জি.এম. হাবিবুল্লাহ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক বলে জানা গেছে।

দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বৈধ লাইসেন্সধারী ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে সেখানে দলীয় সাইনবোর্ড টাঙানোর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এই ঘটনায় গত এক এপ্রিল জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটুলিয়া মৌজার ৫১৫৮ দাগের ১২.৬৬ বর্গমিটার জমি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান ও তার পিতা জনাব আলী সরকার থেকে বৈধ চান্দিনা লাইসেন্স নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তাদের লাইসেন্স নম্বর যথাক্রমে ২০৬/২৫-২৬ ও ২০৫/২৫-২৬।

অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি জি.এম. হাবিবুল্লাহ দলীয় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ওই জমি দখল করে নেন। শুধু তাই নয়, একই এলাকায় আরও একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী মেহেদী হাসান বলেন,আমরা বৈধ লাইসেন্স নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছি। কিন্তু দলীয় ক্ষমতার জোরে আমাদের উচ্ছেদ করে জায়গাটি দখল করা হয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে অভিযুক্তকে প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলতে শোনা যায়, এসপি, ডিসিও আমার কিছুই করতে পারবে না। এমন বক্তব্যে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে জি.এম. হাবিবুল্লাহর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীরা এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তারা উল্লেখ করেন, ২৫.৩২ বর্গমিটার বন্দোবস্তকৃত জমিতে নির্মিত তাদের দোকানঘর গত ১২ ফেব্রুয়ারি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। তারা ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এর ৭ ও ৮(১) ধারায় দখলদারদের উচ্ছেদের আবেদন জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় নওয়াবেঁকি এলাকায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দলীয় পরিচয়ে এমন কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, অভিযোগটি এখনো আমার নজরে আসেনি। তবে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ফিরে পেতে এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *