বিশেষ প্রতিনিধি : মধ্য আষাঢ়ের মেঘলা দিনে সাতক্ষীরার ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর (ডি. বি) মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে উদযাপিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী সবুজ উৎসব। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তুলতে এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ (একটি শিশু, একটি গাছ) কর্মসূচি-২০২৬।

​সোমবার (২৯ জুন) আষাঢ়ের সজল বাতাসে গাছের কচি পাতার দোলা আর ছাত্রীদের কলকাকলিতে মুখর ছিল পুরো বিদ্যালয় চত্বর। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই পরিবেশবান্ধব অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

​দিনের শুরুতেই ছাত্রীদের রঙিন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি চারপাশের গ্রামীণ জনপদে সবুজের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। এরপর একে একে অনুষ্ঠিত হয় জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়ক দেয়ালিকা প্রকাশ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও উপস্থিত বক্তৃতা। সবুজ সতেজ পরিবেশে ছাত্রীদের যুক্তি-তর্কের লড়াই আর পরিবেশ রক্ষার আকুলতা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

​দুপুরে বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল হোসেন। তিনি বলেন, “আষাঢ়ের এই বর্ষণমুখর দিনই নতুন চারা রোপণের শ্রেষ্ঠ সময়। জলবায়ুর এই পরিবর্তনের যুগে প্রতিটি শিশুর হাত ধরে যদি একটি করে গাছ বেড়ে ওঠে, তবে এই সাতক্ষীরা তথা পুরো বাংলাদেশ আবারও চিরসবুজ হয়ে উঠবে।”

​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ এমাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য নূর নাহার বেগম এবং সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক অনুজিত কুমার মন্ডল।

​অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ঋতুবৈচিত্র্যের এই দেশে আষাঢ় আসে প্রকৃতির নবযৌবন নিয়ে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় আজ প্রকৃতির সেই স্বাভাবিক রূপ হারাতে বসেছে। এই সংকট মোচনে ছাত্রীদের হাত ধরে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি এক দারুণ আশা জাগানিয়া পদক্ষেপ। প্রতিটি গাছ যেন একেকটি শিশুর পরম মমতায় বেড়ে ওঠে—এই আহ্বান জানানো হয় সভা থেকে।

​অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থেকে ছাত্রীদের উৎসাহিত করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক অরুণ কুমার মন্ডল, মোঃ নজিবুল ইসলাম, এসএম শহীদুল ইসলাম, মোঃ হাফিজুল ইসলাম, খালেদা খাতুন, শামীমা আক্তার, দেবব্রত ঘোষ, গীতা রানী সাহা, ভানুবতী সরকার, কনক কুমার ঘোষ, আজহারুল ইসলাম, মৃনাল কুমার বিশ্বাস, আসমাতারা জাহান ও হারুনর রশিদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয়ের আঙিনায় ১টি করে ফলদ, ভেষজ ও বনজ চারা রোপণ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *