হাফিজুর রহমান শিমুল : সঞ্জিব কুমার সরকার হত্যা মামলায় এজাহার নামীয় আসামী ৪ জনের মধ্যে ১জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। মূল পরিকল্পনাকারী ডালিম সরকারসহ অন্যান্য আসামীরা এলাকাছাড়া। তবে অজানা আতঙ্কে সঞ্জিবের পরিবার।

থানা সূত্রে জানাগেছে, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কুশুলিয়া ইউনিয়নের ঠেকরা-রহিমপুর গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী সঞ্জিব সরকার (৩৪) হত্যার ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। ৪জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮/ ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই-২৬) রাত ১২টায় নিহতের বাবা গোপাল চন্দ্র সরকার (৬৯) বাদী হয়ে কালিগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নং-(১/১৪০) পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে।

এজাহারে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা এবং হত্যার পর আলামত গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন আনন্দ সরকার (৫০), তাপস সরকার ওরফে ডালিম সরকার (২৭), শাওন সরকার (১৯) ও নেপাল চন্দ্র সরকার (৫২)।

উল্লেখ্য যে, বুধবার (১ জুলাই) ভোরে ঠেকরা-রহিমপুর গ্রামের একটি মাছের ঘের থেকে সঞ্জিব সরকারের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে কালিগঞ্জ থানা পুলিশ। নিহত সঞ্জিব সরকার গোপাল চন্দ্র সরকার ও মায়া রানী সরকারের ছেলে। তিনি পেশায় মাছের ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি স্ত্রী প্রিয়া মণ্ডল ও ১০ মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় সঞ্জিব তার বাবার সঙ্গে মাছের ঘেরে পানি তুলতে যান। রাতের দিকে তার বাবা বাড়ি ফিরে এলেও সঞ্জিব ঘেরেই থেকে যান। পরদিন ভোরে গোপাল চন্দ্র সরকার ঘেরে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মাছের ঘের ও জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে সঞ্জিব সরকারকে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, নিহতের বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তভার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. আব্দুর রহিমের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *