মেহেদী হাসান শিমুল : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বেতনা নদীর ওপর নির্মিত বহুল প্রত্যাশিত গোবিন্দপুর–মাটিয়াডাঙ্গা সংযোগ সেতুর পাশের নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে নির্মাণাধীন সেতুটির কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা এ সেতুর দুই পাশেই নদীভাঙন দেখা দেওয়ায় চরম উদ্বেগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেতনা নদী পুনঃখননের পর নদীতে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা ফিরে এসেছে। তবে বর্ষা মৌসুমে প্রবল স্রোতের কারণে সেতুর পাশের চর ও নদীতীর দ্রুত ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বিশেষ করে সেতুর পশ্চিম প্রান্তে পিলারের গোড়ার মাটি ধসে যাচ্ছে, যা সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
এদিকে গোবিন্দপুর বাজার জামে মসজিদের সামনের প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাত জায়গা ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীতে তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি বড় গাছ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সেতুর অবকাঠামো, গোবিন্দপুর বাজার জামে মসজিদ, আশপাশের দোকানপাট ও বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
সরেজমিনে গিয়ে প্রতিবেদন করার সময় স্থানীয় বাসিন্দা গফফার গাজী বলেন, “কয়েক মাস ধরে নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গোবিন্দপুর বাজারের জামে মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকি নতুন নির্মিত সেতুটিও হুমকির মুখে পড়তে পারে।”
আরেক বাসিন্দা কোরমান মালী বলেন, “দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বহুল কাঙ্ক্ষিত সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বাজারের মসজিদ, দোকানপাট ও বসতবাড়িও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।”
এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে নদীতীরে ব্লক ফেলা বা টেকসই বাঁধ সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে তারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।







