নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১২ নম্বর বল্লী ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন সাবেক সেনাসদস্য ও ব্যবসায়ী মোঃ দিদারুল আলম দিদার। এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার নিয়ে তিনি ইউনিয়নবাসীর দোয়া, আশীর্বাদ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
দিদারুল আলম দিদার বলেন, মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এবং জনকল্যাণে কাজ করাই তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য। তিনি নির্বাচিত হলে বল্লী ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, জনসেবার মান বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন। তাঁর প্রত্যাশা, জনগণের অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বল্লী ইউনিয়নকে একটি আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
নিজের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দিদারুল আলম বলেন, ইউনিয়নের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, কৃষি ও প্রাণিসম্পদের বিকাশ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি মাদক নির্মূল, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সুশাসনভিত্তিক ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “মানুষের ভালোবাসাই হবে আমার শক্তি, আর জনসেবাই হবে আমার অঙ্গীকার। আমি নির্বাচিত হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ইউনিয়নের সমস্যা চিহ্নিত করব এবং তা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করব।”
পারিবারিক ও কর্মজীবনের পরিচিতি : মোঃ দিদারুল আলম দিদার সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১২ নম্বর বল্লী ইউনিয়নের শীবনগর গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আলহাজ্ব রেজাউল করিম সরদার। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি জ্যেষ্ঠ। শিক্ষাজীবনে তিনি কলারোয়া সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পাস করেন।
পারিবারিক জীবনে তিনি বিবাহিত। তাঁর স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা একজন গৃহিণী। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।
দিদারুল আলম দিদার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি মৎস্য চাষ এবং গবাদিপশু ও মাছের খাদ্যের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। ব্যবসায়িক দক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি পোল্ট্রি ও মৎস্যখাদ্য ব্যবসায় সফলতা অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি একজন মৎস্য চাষি ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।
তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরদার এন্টারপ্রাইজের দুটি শাখা রয়েছে—একটি লাবসা পলিটেকনিক মোড়ে এবং অন্যটি ঝাউডাঙ্গা বাজারে। এ ছাড়া বিনেরপোতায় তাঁর একটি মৎস্য আড়ৎ রয়েছে।
জনকল্যাণ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা : ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দিদারুল আলম দিদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিভিন্ন সামাজিক প্রয়োজনে সহযোগিতা করা এবং ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহায়তা করার মাধ্যমে তিনি সামাজিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখে চলেছেন।
তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে বল্লী ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহ ময়দান, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সহযোগিতা করা হয়েছে বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত মডেল ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয় : একান্ত সাক্ষাৎকারে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দিদারুল আলম দিদার জানান, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বল্লী ইউনিয়নবাসীর দোয়া ও সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য, ইউনিয়নের মানুষ উন্নয়ন, সুশাসন ও জনসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন প্রত্যাশা করেন। ভোটাররা তাঁদের বিবেচনায় যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন বলে তিনি আশাবাদী।
তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনে নির্বাচিত হতে পারলে দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাপূর্ণ একটি মডেল ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তুলতে কাজ করব। হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এলাকার সমস্যা সমাধান এবং উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়াই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”
ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে গণসংযোগ : এদিকে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বল্লী ইউনিয়নের ১২টি ওয়ার্ডে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দিদারুল আলম দিদার। তাঁর কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন হাটবাজার, পাড়া-মহল্লা ও বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন তিনি। এ সময় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নির্বাচনী অঙ্গীকারসংবলিত লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি ভোটারদের দোয়া, আশীর্বাদ ও সমর্থন চাইছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন, জনসেবা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সমর্থন কতটা অর্জন করতে পারবেন, তা নির্ভর করবে নির্বাচনী পরিবেশ, প্রার্থীদের কার্যক্রম এবং ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর।
বল্লী ইউনিয়নকে একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দিদারুল আলম দিদার তাঁর নির্বাচনী যাত্রায় ইউনিয়নবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
##







