গাজী হাবিব : সাতক্ষীরার কলারোয়ায় আদালতের আদেশ অমান্য করে সরকারি রাস্তা ও অন্যের জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী জহুরুল ইসলাম ও ইউনুছ আলীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সিভিল মামলা ও ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৮ ধারায় পৃথক মামলা চলমান থাকলেও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ধানদিয়া মৌজার সরকারি রাস্তার প্রায় ০.০৫ একর জমি এবং স্থানীয় বাসিন্দা শেখ খোরশেদ আলীর প্রায় ৩ শতক জমি দখল করে তিনতলা ভবনের ভিত্তি নির্মাণ করা হচ্ছে। আদালত থেকে আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও তা অমান্য করা হচ্ছে।
বিজ্ঞ কলারোয়া সিভিল জজ আদালতে দায়েরকৃত মামলা (নং-২৩/২৬) সূত্রে জানা যায়, নতুন ম্যাপ অনুযায়ী সরকারি রাস্তা ও খোরশেদ আলীর জমির সীমানা নির্ধারণ করা হয়। এ নিয়ে একাধিক শালিস-বৈঠক এবং আদালতের নির্দেশে পুলিশি উপস্থিতিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হলেও তা রাতের আঁধারে ভেঙে দেয় প্রতিপক্ষ ইউনুছ- জহুরুল গংরা।
ধানদিয়া গ্রামের সরকারি ওই রাস্তার প্রস্থ ১৪ ফুট থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ৪ ফুটে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, একই ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৮৮ ধারায় আরেকটি মামলা (নং-পি ৪৫৩/২৬) চলমান রয়েছে। আদালত কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জকে ঘটনাস্থলে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন এবং পরবর্তী তারিখ ২৩ জুন পর্যন্ত সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশের তোয়াক্কা না করে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ইউনুছ আলীর তত্ত্বাবধানে জহুরুল ইসলাম শ্রমিক দিয়ে নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন। তবে তারা বলছেন- আদালত তাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন, তবে এ সংক্রান্ত কোনো বৈধ নথি দেখাতে পারেননি।
জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভূমি সহকারী কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার গাইন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জরুরি নোটিশ জারি করে নির্মাণকাজ বন্ধ ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন। কিন্তু নোটিশ অমান্য করে কাজ চলমান রাখা হয়েছে।
অভিযুক্ত ইউনুছ আলী দাবি করেন, ম্যাপ তৈরির সময় ভুলবশত রাস্তা তাদের জমির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তবে সরকারি রাস্তার নির্ধারিত প্রস্থ ১৪ ফুট থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। কিন্তু বাস্তবে নির্মাণকাজের ফলে সেই প্রস্থ বজায় থাকছে না- এ বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি।
অভিযোগকারী শেখ খোরশেদ আলী বলেন, আদালতের রায় তার পক্ষে থাকলেও প্রতিপক্ষ তা মানছে না। পূর্বে পুলিশি উপস্থিতিতে সীমানা নির্ধারণ করে পাঁচিল নির্মাণ করা হলেও তা ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমরা নায্য বিচার থেকে বঞ্ছিত হচ্ছি।
স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রওশন আলী গাজী বলেন, সরকারি রাস্তার ওপর ভবন নির্মাণ না করতে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তারা কোনো আইন মানছে না। শালিসের সিদ্ধান্তও তারা উপেক্ষা করছে।
কলারোয়া থানার ওসি জানান, পুলিশ পাঠিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়েছে। তবে পুলিশ চলে যাওয়ার পর পুনরায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ওই প্রভাবশালীরা।
জয়নগর ইউনিয়নের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। আইন অমান্য করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করার প্রবণতা বাড়ছে। দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সরকারি সম্পত্তি দখল ও আইনের শাসনের অবনতি এবং দুইপক্ষের মধ্যে যে কোন সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বাঁধতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।







