দীপক শেঠ কলারোয়া : সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও প্রকাশনা সম্পাদক সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব। বুধবার (০৩ জুন ২০২৬) বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিনন্দন জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

সাতক্ষীরা পৌরসভার কাউন্সিলর যুবদল নেতা আইনুল ইসলাম নান্টা সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব জেলা পরিষদ প্রশাসক মনোনীত হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। ষাট দশকের মাঝামাঝি, চারপাশের বাংলায় তখন অধিকার আদায়ের তুমুল আলোড়ন।

১৯৬৫ সালের তেমনই এক সময়ে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব। গ্রামীণ জনপদে শৈশব ও কৈশোরের পাঠ চুকিয়ে আশির দশকের শুরুতে তিনি পা রাখেন রাজধানী ঢাকায়। ১৯৮৩ সালে ভর্তি হন ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। বিজ্ঞানমনস্ক ভাবনার সমান্তরালে তরুণ এই শিক্ষার্থীর ভেতর তখন ডানা মেলছে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চেতনা।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সেই উত্তাল দিনগুলোই মূলত তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বিজ্ঞানের গবেষণাগার পেরিয়ে তিনি স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলেন রাজনীতির চত্বরে। ছাত্ররাজনীতিতে মেধা ও সক্রিয়তার হাত ধরে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে দেশজুড়ে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৯৩ সালে মনোনীত হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক।

সাংগঠনিক দক্ষতার পুরস্কার পেতে সময় লাগেনি; ১৯৯৪ সালের আলোচিত রিজভী-ইলিয়াস কমিটিতে তিনি ১ নম্বর সহ-সভাপতির দায়িত্ব লাভ করেন। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে এসে ছাত্ররাজনীতির পাট চুকিয়ে হাবিবুল ইসলাম নাম লেখান মূল ধারার জাতীয় রাজনীতিতে। নিজ জন্মমাটি সাতক্ষীরার মানুষের কাছে দ্রুতই হয়ে ওঠেন তরুণ ও জনপ্রিয় এক মুখ।

১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসন থেকে তরুণ বয়সেই তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, যদিও সেই সংসদের মেয়াদ ছিল সংক্ষিপ্ত। তবে তাঁর রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার আসল প্রতিফলন ঘটে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো তিনি পৌঁছান দেশের আইনসভায়। এলাকার উন্নয়ন আর গণমানুষের সাথে নিবিড় যোগাযোগ ধরে রাখায় ২০০৩ সালে তিনি সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রের রাজনীতিতেও তাঁর অবস্থান সুদৃঢ় হয়।

২০০৯ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা বিষয়ক সহ-সম্পাদক এবং পরবর্তীতে ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান এই দূরদর্শী নেতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই তরুণ পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্রটি আজ চার দশকের রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় সাতক্ষীরার রাজনীতিতে এক চেনা সারথি। চড়াই-উতরাই আর নানা রাজনৈতিক ঝোড়ো হাওয়ার মধ্যেও তৃণমূলের সংযোগ ধরে রেখে যিনি এগিয়ে চলেছেন নিজের আদর্শের পথে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *