জি এম আমিনুল হক : সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ভালুকা চাঁদপুর পূর্বপাড়া আহলে হাদিস জামে মসজিদের উন্নয়নমূলক কাজে বাঁধা প্রদান এবং মসজিদ কমিটির সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে ২৮আগষ্ট শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর মসজিদের সামনে সকল মুসল্লীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

মানববন্ধন শেষে ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মিঠুর নেতৃত্বে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত নুর ইসলাম বারবার মসজিদের কাজে বাঁধা দেওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি ভবিষ্যতে মসজিদের কাজে আর কখনো বাঁধা না দেওয়ার এবং মসজিদ কমিটির নামে মিথ্যা মামলা তুলে নেওয়ার অঙ্গীকার করলে মসজিদে বসে শান্তিপূর্ণ ভাবে আপোষ মিমাংসা করা হয়।

এতে এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই মসজিদের জমি দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ইসহাক আলী হাজীর কবরের পাশে অছিয়ত করা জায়গায় তার স্ত্রীর কবর না দিয়ে জোরপূর্বক পুত্র নুর ইসলাম ফারুকী মসজিদের সামনে মুসল্লীদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে তার মায়ের কবর দিলে মসজিদ কমিটিসহ গ্রামবাসীদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হলে থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে থানা পুলিশের সহায়তায় বিডিএফ প্রেসক্লাবে বসে শান্তিপূর্ণ ভাবে আপোষ মিমাংসা করা হয়।

চরম স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে সেই সময় আপোষ মিমাংসার আবেগঘন মুহুর্তের পুরো ভিডিও ফুটেজ গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। নুর ইসলাম ফারুকীর সেই অঙ্গীকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়লে তিনি সেসময় জনরোষ থেকে রেহাই পান। এরপর তিনি নিজ হাতে আবার আনুষ্ঠানিক ভাবে ওই মসজিদের গেট ও প্রাচীর নির্মানের কাজ শুরু করেন।কয়েক দিন যেতে না যেতে আবারও কাজ বন্ধ করতে মসজিদ কমিটির নামে আদালতে ১৪৫ ধারায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞ আদালতের আদেশ মোতাবেক সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার মসজিদ কমিটির নোটিশ দিলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে চারিদিকে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনি জনতার রোষানলে পড়েন। একপর্যায় ধুলিহর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও প্যানেল চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মিঠুসহ সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার অত্যন্ত আন্তরিক ভাবে মিমাংশা করে দেন।

নুর ইসলাম ফারুকীর এই দ্বিমুখী চরিত্রের কারণে সকলের তীর্যক বাক্যবানে জর্জরিত হলেও আর কখনো মসজিদের কাজে বাঁধা না দেওয়ার অঙ্গীকার দেওয়ায় জনরোষ থেকে রেহাই পান।ধুলিহর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক হোসেন মিঠুসহ শান্তিপূর্ণ ভাবে আপোষ মিমাংসায় নেতৃত্ব দেওয়া স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ,পুলিশ ও সাংবাদিকরা প্রশংসায় ভাসছেন। গ্রামবাসী ও মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

আগের মতো আজকেও সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ ও সংরক্ষণ করে রাখছেন।মসজিদের মত স্পর্শকাতর ও ধর্মীয় অনুভূতি ও আবেগ জড়িত থাকার কারণে সব কিছু প্রকাশ না করলেও গণমাধ্যমকর্মীরা তার বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ধুলিহর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. আশরাফুজ্জান খোকন, ধুলিহর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো.আব্দুস সালাম, ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাড়ীর ইনচার্জ এস আই হাবিবুর রহমান, টু-আইসি এএসআই মাহবুব রহমান, বিডিএফ প্রেসক্লাবে সভাপতি জি এম আমিনুল হক, সাধারণ সম্পাদক মো.আরশাদ আলীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *