বিশেষ প্রতিনিধি: আনন্দঘন ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, সাতক্ষীরা জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ১৪৩৩।
সংগঠনের সম্মেলন কক্ষে এক শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এর মধ্য দিয়ে সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, বিশিষ্ট রবীন্দ্রানুরাগী ও অন্যতম সংগঠক আবুল ফারাহ পলাশ। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন।
‘আমি ভয় করব না -ভয় করব না শ্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে অনুষ্ঠিত এই দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে ২১ সদস্য বিশিষ্ট সাতক্ষীরা শাখা কমিটি ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের খুলনা অঞ্চলের অন্যতম সংগঠক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনকে সর্বসম্মতিক্রমে সভার সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করা হয়। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন নয়ন ভট্টাচার্য । ২১ সদস্য বিশিষ্ট সাতক্ষীরা জেলা কমিটির অন্যান্যরা হলেন সহ-সভাপতি গুলশান আরা, শেখ মোশফিকুর রহমান মিল্টন, রিক্তা মন্ডল, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্যরা হলেন প্রতাপ কুমার সরদার, তুষার মিত্র, মিঠুন দেবনাথ, তনয়া মেধা শায়নী ও আমিনা বিলকিস ময়নাকে কোষাধ্যক্ষ করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়।
সম্মেলনের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সংস্কৃতি ও সমাজসেবায় অবদান রাখা প্রয়াণ হওয়া কৃতি মানুষদের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আমিনা বিলকিস ময়না। সাতক্ষীরা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ও প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন মশু, দৈনিক দৃষ্টিপাত সম্পাদক জি এম নূর ইসলাম, কিংবদন্তী সাংবাদিক সুভাষ চৌধুরী, নাগরিক কমিটির প্রয়াত সভাপতি আনিসুর রহিম, এড. অরুণ ব্যানার্জী, অ্যাড. ছবি, সনাক ও ম্যাপের সভাপতি ড. দিলারা বেগম সহ অন্যান্য প্রয়াত গুণী ব্যক্তিত্বদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সম্মেলনের মূল কক্ষে স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে তৃষ্ণা মণ্ডল, পায়েল ঘোষ, প্রাঞ্জল সরকার, আগমনী বর্মন, মনিষা মণ্ডল এবং তৌফিক আহাম্মেদের আবৃত্তি ও সঙ্গীত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানে কেশবপুর ও পাটকেলঘাটা শাখার নেতৃবৃন্দ এবং কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিগণ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে সর্বসম্মতিক্রমে নতুন কমিটি গঠন করা হয় এবং নবগঠিত কমিটির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি। সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের এই দ্বি-বার্ষিক উৎসবের সফল সমাপ্তি ঘটে।
আবুল ফারাহ পলাশ বলেন, জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ কেবল গান শেখার বা গাওয়ার কোনো মঞ্চ নয়; এটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও প্রগতিশীল সমাজ গড়ার এক নীরব সংগ্রাম। প্রান্তিক পর্যায় থেকে নতুন প্রজন্মকে আমাদের শিকড়ের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং তাদের অন্তরে রবীন্দ্র-সুকান্তের চেতনাকে প্রজ্জ্বলিত রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
সাতক্ষীরা শাখার এই প্র প্রাণবন্ত আয়োজন প্রমাণ করে, শিকড়ের টানে আমরা কতটা ঐক্যবদ্ধ। আপনারা যারা দিনের পর দিন শ্রম দিয়ে, সাধনা দিয়ে এই সংগঠনকে টিকিয়ে রেখেছেন, তাঁদের প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা। আসুন, সুরের আলোয় দূর করি সকল সংকীর্ণতা ও অশুভকে। গান হোক আমাদের প্রতিরোধের ভাষা, আর সংস্কৃতি হোক আমাদের আত্মপরিচয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আবু আফফান রোজ বাবু, জুনায়েদ আকবর প্রমুখ।







