বিশেষ প্রতিনিধি : “এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি”— কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের এই অমর দীপ্ত অঙ্গীকারকে হৃদয়ে ধারণ করে সাতক্ষীরার ঋশিল্পী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অধিবেশন। কবি সুকান্তের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ২৮ আগস্ট, শুক্রবার বিকেল ৪টায় আয়োজিত এই উৎসবটি জেলা পর্যায়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ ও প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সমাবেশ হিসেবে অবিহিত হচ্ছে।
মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন এবং অতিথিদের উত্তরীয় ও স্মারক বরণের মধ্য দিয়ে প্রীতিসংধ্যার সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার সম্মানিত জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য আবুল ফারাহ পলাশ এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা শাখার সভাপতি শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, “অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মানবিক সমাজ গড়ার অন্যতম হাতিয়ার সুকান্তের কবিতা। আজকের এই অস্থির সময়ে এক বাসযোগ্য ও অসাম্প্রদায়িক পৃথিবী গড়ে তুলতে নতুন প্রজন্মকে সুকান্ত ও রবীন্দ্রনাথের চেতনা আঁকড়ে ধরতে হবে।”
রিক্তা মন্ডল ও গুলশান আরার যৌথ, সাবলীল ও নান্দনিক উপস্থাপনায় পুরো আয়োজনটি এক অনন্য উচ্চতা পায়। সুকান্তের স্মৃতি স্মরণে পরিবেশিত হয় বিশেষ নৃত্যনাট্য ‘তোমার আলোয় প্রদীপ জ্বেলে যাই’। একে একে মনোগৃহীত সংগীত, আবৃত্তি ও একক নৃত্য পরিবেশন করেন স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে কালজয়ী সুর ও ছন্দে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন কণ্ঠশিল্পী দিশা পোদ্দার, মিতু মন্ডল, অন্বেষা মজুমদার, অরণ্য চৌধুরী, কেয়া চৌধুরী, পায়েলে মল্লিক, তৌফিক আরহাম, মিঠুন দেবনাথ, আতিকুর রহমান জাকির ও পূজা গায়েন। যন্ত্রসংগীতে গিটারে ‘অনেক সাধনার পরে’ ফুটিয়ে তোলেন ঐশি মল্লিক এবং কবি সুকান্তের কালজয়ী কবিতা ‘ছাড়পত্র’ আবৃত্তি করেন নওরিন উলফাত অনন্যা ও ‘বিক্ষোভ’ আবৃত্তি করেন শামিম ওসমান। এছাড়াও দ্বৈত ও একক নৃত্যে মঞ্চ মাতিয়ে তোলেন পুষ্পিতা, তৃণা, সাকিব, রোহান, রাজন্য হোড় ও তনয়া মেধা শায়নী। আয়োজনের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল ঝড়ো তালের তবলার লহরা এবং হৃদয়ানুভূতি জাগানো সমবেত গান ‘এই যে আমার বাড়ি’।
আয়োজনের শেষভাগে সংগঠনের কৃতি প্রশিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে সুকান্তের শতবর্ষের স্মারক তুলে দেন সম্মানিত অতিথিবৃন্দ। সবশেষে স্মারক হাতে অতিথিসহ সর্বস্তরের শিল্পীদের নিয়ে এক ঐতিহাসিক গ্রুপ ছবি তোলার মধ্য দিয়ে সুর ও চেতনার এই সুমহান প্রীতিসংধ্যার সফল ইতি ঘটে।







