নিজস্ব প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তাকে প্রাণনাশের হুমকি, আদালতে ১৪৫ ধারার আবেদন। অতিরিক্ত জমি ভোগের তথ্য পাওয়ার দাবি; বেড়া ভাঙচুর, অশালীন গালাগাল ও দখলের হুমকির অভিযোগে আতঙ্কে পরিবার।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের হাবাসপুর মৌজায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা, লেখক ও গবেষককে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি, অশালীন ভাষায় গালাগাল এবং জোরপূর্বক জমি দখলের ঘোষণা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভুক্তভোগী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় আবেদন করেছেন।
অভিযোগকারী শেখ সিদ্দিকুর রহমান জানান, তিনি ২০১০ সালে রেজিস্টারকৃত দলিলের মাধ্যমে সদর উপজেলার হাবাসপুর মৌজার বিআরএস খতিয়ান নং-৪৭১, দাগ নং-১২৩৫-এর ১৬.৩৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরে নামজারি সম্পন্ন করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছ লাগিয়েছেন এবং সিসি পিলার দিয়ে সীমানাও নির্ধারণ করেছেন।
তার অভিযোগ, একই এলাকার মো. খলিলুর রহমান সম্প্রতি ওই দাগের পশ্চিম পাশের ৩.৩০ শতাংশ জমি কেনার পর মোবাইল ফোনে তাকে জানিয়ে দেন, তার জমির মধ্য থেকে ৪ শতাংশ ছেড়ে দিতে হবে। কারণ হিসেবে তিনি তার পূর্বে ক্রয়কৃত ৮ শতাংশ ও নতুন ৩.৩০ শতাংশ জমি একত্রে ভোগ করার ইচ্ছার কথা জানান এবং তাকে পূর্বদিকে সরে যেতে বলেন।
এ অবস্থায় গত ১৮ জুলাই উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত জরিপকারক দিয়ে জমি পরিমাপ করা হয়। শেখ সিদ্দিকুর রহমানের দাবি, পরিমাপে তার দলিলমতে সম্পূর্ণ ১৬.৩৩ শতাংশ জমি বিদ্যমান পাওয়া যায়। অন্যদিকে খলিলুর রহমান ৩.৩০ শতাংশের পরিবর্তে প্রায় ৬.৫৭ শতাংশ জমি ভোগ করছেন বলে জরিপে উঠে আসে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওইদিন বিকেলে গবাদিপশুর অবাধ প্রবেশ ঠেকাতে নিজের জমির এক কোণে অস্থায়ী বেড়া দেওয়ার পর তিনি গ্রামের বাড়িতে চলে যান। পরে জানতে পারেন, তার অনুপস্থিতিতে অভিযুক্ত ব্যক্তি বেড়া উপড়ে ফেলেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, বেড়া ভাঙার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি উচ্চস্বরে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং পুনরায় বেড়া দিলে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২১ জুলাই বুধহাটা বাজারে জমি জরিপকারী শেখ হেদায়েতুল ইসলামকে হেনস্তা করা হয়। একই দিন মোবাইল ফোনে শেখ সিদ্দিকুর রহমানকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করে বলা হয়, “কাল ২২ জুলাই জমি দখল নেব, তোমার কত ক্ষমতা আছে ঠেকাইও।” এরপর থেকেই তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে দাবি করেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি অভিযোগকারীকে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। অপরদিকে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান অভিযুক্তকে জমি দখলের চেষ্টা না করার জন্য বোঝানোর আশ্বাস দিয়েছেন বলে অভিযোগকারী জানান।
সম্ভাব্য রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে শেখ সিদ্দিকুর রহমান ইতোমধ্যে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় আবেদন করেছেন। আদালতের আদেশের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. খলিলুর রহমানের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।







